বানান হয়ে ওঠা সময়

হইতে– লুই কান, প্রতি– এন টিং।। রোমের চিঠিগুলো (১৯৫৩-৫৪)

অনুবাদ– সুপ্রভা জুঁই

এন গ্রিসওল্ড টিং (জুলাই ১৪, ১৯২০ – ডিসেম্বর ২৭, ২০১১) একজন স্থপতি এবং চিন্তক । গণিতের প্রতি তাঁর প্রেম এবং স্থাপনায় space ও frame এ উদ্ভাবনী ভুমিকা রাখার জন্য তিনি চির-স্মরণীয়। লুই কানের (ফেব্রুয়ারি ২০, ১৯০১ – মার্চ ১৭, ১৯৭৪) সাথে ১৯৪৫ সাল থেকে কাজ শুরু করেন তিনি। কানের মৃত্যুর আগ অবধি অর্থাৎ, ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তাঁরা একত্রেই কাজ করেছেন। তাঁকে ‘কানের জ্যামিতিক বিশেষজ্ঞ’ বলা হতো। ‘টিং টয়’ বলে একটা আলাদা অধ্যায় রচনা করেছেন এন। জ্যামিতিক কারসাজিতে গড়েছেন শিশুদের উপযোগী নানা খেলনা। তিনি M.Arch শেষ করেছেন Harvard Graduate School of Design থেকে এবং Ph.D করেছেন  University of Pennsylvania থেকে এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়িয়েছেনও ২৫ বছর ধরে। তিনি American Institute of Architects এবং National Academy of Design এর একজন Fellow  সদস্য।

 


a
এন টিং

‘আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের একসাথে করা সৃষ্টিশীল কাজগুলো আমাদের সম্পর্ককে আরো গভীরতা দিয়েছে আর এই সম্পর্কই সৃষ্টির খেলাকে বিস্তৃত করেছে’…… লুই কানের প্রসঙ্গে এন গ্রিসওল্ড টিং।

‘আজকের দিনে, স্থাপত্যে একজন নারী হিশাবে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো তার সৃষ্টিশীল সম্ভাবনাকে জাগ্রত করা। এবং এর জন্য তার মানসিক চিন্তা চেতনা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কোনরকমের অপরাধিতা, অক্ষমতা, নৈতিক অবস্থানের বেড়াজাল কাটিয়ে নিজের চিন্তাকে ধারণ করার জন্য সৃষ্টিশীল পদ্ধতি জানার পাশাপাশি ‘masculine’ এবং ‘feminine’ এর মূলতত্ত্ব বোঝা দরকার যে এগুলো ঠিক কি করে নারী – পুরুষ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সৃষ্টিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।’
এন গ্রিসওল্ড টিং


‘আমার কাছে স্থাপত্যবিদ্যা হলো সেই আবেগপূর্ন খোঁজ যা, form,,space,number,shape, proportion, scale এর মৌলিক স্বভাবটা জেনে, thresholds of structure, প্রকৃতির নীতিমালা, মানুষের পরিচয় ও অর্থ সহকারে কোন জায়গাকে সংজ্ঞায়িত করে।’
এন গ্রিসওল্ড টিং

কানের সর্বশেষ প্রেমিকার সন্তান Nathaniel Kahn তাঁর বাবাকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘My Architect’ বানানোর সময়ে এনে’র সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। কান বিয়ের মতো সম্পর্ক নিয়ে কি ভাবেন এরকম প্রশ্নের জবাবে বলছেন,

‘আমার মনে হয় না তিনি বিয়ে করতে পারেন, আমি দুঃখিত কিন্তু সত্যিই মনে হয়না তিনি সেটা করতে পারেন। তিনি সব সময়েই বলতেন যে, কাজ-ই হলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তুমি মানবিক সম্পর্কের উপর নির্ভর করতে পারো না। কাজকেই কেবল গোনায় ধরা যায়।’



অপ্রত্যাশিত গর্ভ ধারণে কতটা চমকে গেছিলেন এন এরকম প্রশ্নের জবাবে বলছেন,

লুই কান এবং এন টিং
লুই কান এবং এন টিং

‘হ্যাঁ শারীরিক একটা চমক ছিলো তো বটেই তাই বলে সেটা আমি কি করবো না করবো সেই পরিকল্পনায় কোন প্রভাব ফেলেনি। কান আমায় বলতেন, তোমাকে এই ব্যাপারে দার্শনিক চিন্তা ধারণ করতে হবে। (হাসি) আমি আমার পরবর্তী জীবনে দার্শনিক চিন্তাকেই ধারণ করেছি। কিন্তু ঐ মুহূর্তে আমাকে কিছু করতেই হতো। তিনি যদি আমাকে বিয়ে করার কোন উদ্যোগ না নেন তবে সেখান থেকে আমার চলে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিলোনা। যখন আমি তাঁকে ছেড়ে চলে এলাম… আমি আসলে ছেড়ে আসতে চাইনি।’ 
চোখভরা জল নিয়ে কথাগুলো শেষ করেন এন।      


এন গ্রিসওল্ড টিং, কানের বিবাহিত স্ত্রী নন। এজন্য সন্তান গর্ভে ধারণ করে সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে লুই কানের সাথে সাত বছরের পেশাগত এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার পর টিং এক শরতে রোমের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করেন, ১৯৫৩ সালে। টিং-এর ইতালিতে থাকা দিনগুলিতে কান প্রতি সপ্তাহে তাঁকে চিঠি লিখতেন। এখানেই তাঁদের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এই এক বছরে পাঠানো ৫৩ টি চিঠি’র, ৫ টি চিঠি এখানে অনূদিত হলো। এই চিঠিগুলোতে কেবল তাঁদের সম্পর্ক উন্মোচিত হয়েছে তা নয়, বরং দু’জন স্থপতি বন্ধু’র অভিজ্ঞতা যেন গাঢ় হয়ে প্রকাশ পেয়েছে। অন্তরঙ্গ অধ্যায়, পেশাগত রাজনীতি, আধুনিক স্থাপত্য- এসবই তাঁর চিঠির আলোচ্য বিষয়।   




টুকরো টুকরো চিঠি!



‘ আমি ডেস্কে বসা মাত্রই নিজেকে বলতাম, ‘এখনই এন এর জন্য লিখতে হবে- আমি তাঁকে দেখতে পেতাম, ঠিক যেন সে আমার পাশেই বসে আছে।’
২১ জুলাই ১৯৫৪


‘তোমার চিঠির প্রথম পাঠ  খুব দ্রুত হয়, এরপরে কখনো চা খেতে খেতে কিংবা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় ধীরে ধীরে পড়ি। ট্রেনও যুক্ত হয়েছে এখন তোমার চিঠি পড়ার স্থানের তালিকায়। সামনের আরো ক’টা দিন তোমার এই চিঠিটাই পড়বো, দীর্ঘদিনের জন্য রেখে দেওয়ার আগে। একে অন্যের কাছে কিছু অর্থ রাখি বলেই এই আয়োজন। অন্তহীন ভালোবাসা যাদের, যার সূচনা হয়েছিলো জীবনের সর্বাংশে।’
৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪


‘আজ রাতে আমাকে একাই কাজ করতে হবে- একাকী থেকেও আমি তোমার সাথেই আছি। আর আমার জায়গায় থাকলে তুমি কি করতে ভাবলেই আমার কাজ সবথেকে ভালো হয়।’

২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪


‘আমাকে কালের সর্বোৎকৃষ্ট ভবন নির্মাণ করতেই হবে…. আর এই কাজে তোমাকে আমার সাহায্য আমার চাই-ই চাই। আমার ধারণা তোমাকে ছাড়া এ কাজ আমি পারবো না।’
২৯-৩১ মে ১৯৫৪


‘তোমার পরামর্শ বরাবরই উদ্দীপক এবং প্রেরণাদায়ক। আর আমি জানি পরিপার্শিক অবস্থা আমাদের মনন-কে বন্ধুর মতো চালনা করে… উষ্ণ উদ্বেগের সাথে এলেক্স আর তোমার খবর পাওয়ার প্রত্যাশায় আমি অপেক্ষা করি। আমি যত্নের সাথে তোমার সমস্ত চিঠি তুলে রেখেছি লোকচক্ষুর আড়ালে। যদিও গোপন জায়গাটির নাগাল পাওয়া খুবই সোজা। আমি আবারো সবগুলো চিঠি পড়বো।’
৩ সেপ্তেম্বর ১৯৫৪


‘আর্টে আমার বর্তমান সময়ে যে আত্মবিশ্বাস সেটা সত্যিকার অর্থে তোমার জন্যই পাওয়া। কিন্তু এটা একেবারে পারস্পারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা। কারণ আমি মনে করি তুমি আসলেও এক অসামান্য প্রতিভা।’

২০ নভেম্বর ১৯৫৪


‘আমি নীল ছাড়া অন্য যেকোনো কিছুর ভান ধরবো আর নিজের কাছে বিষাদময় হয়ে যাবো। আমার একমাত্র আশা হলো সকলে এবং সবকিছু যাদের আমি ভালোবাসি তারা আবার একসাথে মিলেমিশে সুখে থাকবে আমার হৃদয়ে এবং বাস্তবেও।’
১০ ডিসেম্বর ১৯৫৪


15778473_10210010156804367_510488122_o

 


৫ টি চিঠি!



০.
কেবলগ্রাম
Received on board: S/S Flying Spray
অক্টোবর ৩১, ১৯৫৩ at 1910 GMT

প্রতিঃ এন টিং (S/S Flying Spray) WSUQ
হইতেঃ (WCC CHATHAM)
বিদায়ী বার্তা-
আমি তোমাকে ভালোবাসি।
লুই

১.
১৬ নভেম্বর ১৯৫৩

প্রিয় এন,
তোমার অসাধারণ চিঠিগুলো এসেছে। কম করে পাঁচবার পড়েছি। জলজ্যান্ত মানুষটা কেমন আছ সেটা আন্দাজ করার চেষ্টা করছি। তোমার জন্য এটা সহজ- নতুন স্বর্গ- আমার জন্য? প্রথমত তুমি বলেছিলে বদৌ (Bodeaux) এ থামবে যেখানে দশদিনের মাঝে পৌঁছে যাচ্ছ- বারো দিনের মাঝে Bodeaux বা La Pallice যেকোনো একটি তুমি বেছে নিতে পারো-

আমি Persecta পাঠিয়েছি Bodeaux এ।
আমি একটা টেলিগ্রামও করেছি Bodeaux এ।
আমি রোমে চিঠি পাঠিয়েছি। ধরে নিয়েছি যে তুমি Bodeaux এর বদলে যদি প্যারিস চলে যাও, এজন্য।
  অযথায় এসব করছি তাইনা? জানি যে সবই ভুল আন্দাজ হবে আমার।

আশা করি চিঠিখানা তুমি প্যারিসে পাবে। এখন আমি আবারো আন্দাজ করছি খুব সম্ভবত নাইসে কোন আমেরিক্যান এক্সপ্রেস নেই। তুমি হয়তো একটু বেশি সময়ের জন্য প্যারিসে থাকবে ফলে আমার চিঠিটা বৃথা যাবেনা।

আমার আগের চিঠিগুলো থেকে জানতে পারবে যে গ্যালারীর প্রদর্শনী দারুণ ভাবে সমাপ্ত হয়েছে। মানুষজনের মতামত ভীষণ সন্তোষজনক ছিলো।

জেপ ক্লস (Zepp Clauss), জেন (Jane) আর  z.cl’s এর ক’জন গ্যালারিতে বিশেষভাবে আয়োজন করে এসেছিলো। জেপ আমাকে রবিবারে মানে পনেরো তারিখে ডেকেছিলেন জানো। বললেন, তাঁর দেখা সেরা আধুনিক ভবন ছিলো এটা। তাঁর বিশ্বাস ভবনটি আলোড়ন সৃষ্টি করবে। তিনি শুক্র শনিবারেও ছিলেন Phila তে। আমার ইচ্ছে ছিলো যাবো আবার। সত্যি কথা বলতে কি আমি নিমগ্ন হওয়ার মতন কোন বৈচিত্রতা পাইনি তাঁর মাঝে। কিন্তু তিনি সৎ এবং পরমানন্দদায়ক। Perspecta এর প্রকাশনা নাকি দুর্দান্ত হয়েছে। অন্তত তিনি তাই বললেন।

পরে জেন আবার ফোন করে জানালো জেপ আরো কি কি বললেন। Yale পরিদর্শনের পর ওরা ফিলিপ জনসন (Philip Jhonson) এর কাছে গিয়েছিলো। ফিলিপ ঘরের ছাদ পছন্দ করেনা কোন কারণে। আর জেপে’র মতে ও নাকি ভাবে যে আমি ওর স্টিলের সেকশান কপি করেছি আমার জানালার ফ্রেমে। আমার কিন্তু মনে হয় এটা মূলত জেপেরই ধারণা যা রীতিমত হাস্যকর। আমার বিশ্বাস আমার গুলো ওর চেয়ে বেশি ভালো। তাছাড়া সেই-ই বা এই চিন্তা কেমন করে পেলো আর কে-ই বা স্টিল-কে তার নিজস্ব সম্পত্তি বানিয়ে রেখেছে বলো! যাই হোক… দুর্বল চিত্তের মানুষ সব।

জর্জ হাও (George Howe) আর ভিনসেন্ট স্কালি (Vincent Scully) আজকে Percepta প্রবন্ধের কথা বলছিলো। জর্জ বেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছে- ‘‘আমার মনে হয় রাস্তা সম্পর্কিত প্রবন্ধটি নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটা নতুন যুগের সূচনা করবে। ভীষণ অর্থবহ একটি  রচনা।’’ স্কালি ঐক্যমত পোষণ করে আবারো একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছে- ‘‘space, frame এর ক্ষেত্রে ভবনটি স্থাপত্যবিদ্যায় আরেকটি বড় অবদান। আমার মতে লুই এবং এন, এ ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়েও বেশি উত্তাপ ছড়াবেন।’’ ‘‘আমার মতে গোটা Perspecta প্রবন্ধটি Arch. Magazine এ প্রকাশিত হইয়া উচিৎ। অন্তত তাতে যদি আমাদের বিবেক জাগ্রত হয়।’’

আদরের এন, আমি চাই তো তুমি একটা সুন্দর আত্মা ধারণ কর। যা মোড়ক হবে আমার ভালোবাসায় পূর্ণ তোমার হৃদয়ের। আমিও ঠিক একই শূন্যতার সামনা করছি আর এও জানি যে একে প্রতিহত করা একমাত্র উপায় হলো কাজ, পরিশ্রম।

আমি মনে হয় New York এর বাড়িটা নিয়ে ফেলবো ‘Mayer’ এর সাথে কাজটা করতে হলে এছাড়া উপায় দেখছি না। Mayerএই শুক্রবারে Phila তে আসছেন ওয়েস (Weiss) এবং জেনেল (Genel) কে দেখতে। দুর্ভাগ্যক্রমে সেদিনই আমার Penn Centerএ মিটিং আছে। তবে আমি নিশ্চিত ওয়েসে’র পরিবার সেদিনই আমাদের স্বাগত জানাবেন।

কমিশন সাইন করা মাত্রই আমি তোমাকে প্লট প্ল্যান আর বাদবাকি অবস্থা জানিয়ে চিঠি পাঠাবো। আমরা দু’জনেই এই ডিজাইনটা করতে পারি। যতদূর বুঝতে পারছি একটা কুঞ্জকুটির, ব্রেকফাস্ট এরিয়াসহ একটা বিশাল রান্নাঘর, লন্ড্রি, স্টোরেজ, চারটা বেডরুম, চারটা বাথরুম আর একটা স্টাডি হবে। তাদের পুত্রসন্তান (যে এবার ‘ল’ স্কুলে ভর্তি হলো) বিয়ের পর খুব সম্ভবত তাদের সাথেই থাকবে (আমার ধারণা এটা তার মায়ের হৃদয় প্রসূত সিদ্ধান্ত) এবং অবশ্যই শিল্পের সংগ্রহ এবং প্রচুর বই সামলানোর মতো একটি আলাদা সমস্যা তো আছেই। তারা তিন একরের মতো জমি কিনেছেন লং আইল্যান্ডে যেটার কোন ম্যাপ তো আমার কাছে এখন নেই তবে যেটুকু মনে আসছে তাই-ই এঁকে দিলাম অপর পাতায়।

তো এন, খুব ভালো সময় কাটাও আর কোনরকম টাকা পয়সার সমস্যা হলে আমাকে জানিও। প্রতি চিঠির সাথেই আমি তোমাকে একটা করে বিল পাঠাবো তাতে করে তোমার ডলার জমবে আর আমি জানি টাকা পয়সার মামলায় তুমি কতটা বিচক্ষণ। এখন তাহলে উঠছি পাখি। খুব শীঘ্রই আবার লিখতে বসবো।

সমস্ত ভালোবাসা সমেত,
লুই
 
Alfred ‘’Zepp’’ Clauss এবং তাঁর স্ত্রী Jane Clauss উভয়েই কানের স্থপতি বন্ধু।
Grorge Howe এর সহযোগী ছিলেন ১৯৪১-৪২ অবধি। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত Yale University তে স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

২.
৩০ জানুয়ারি, ১৯৫৪

আদরের এন,
Redevelopment Authority কে আমার কর্ম যোগ্যতা জানিয়ে একটা চিঠি লেখার মাঝে ছিলাম। আমাকে মনে হয় ভুতে ধরেছে জানো- আমি ভেবেই পাচ্ছি না যে কি লিখবো। তাই মনে হলো এসবের চেয়ে বরং তোমার কাছে লিখি। কিছু শুভ চিন্তাদের স্বাগত জানাই। তোমার ভ্রমণের ব্যাপারে শেষ চিঠিগুলতে পড়লাম। একদিনে একজন মানুষ কত কি-ই না দেখে ফেলতে পারে! আমার মতে সূর্যালোকের অনুপস্থিতে সমমানের ভালো ছবি তোলার ব্যাপারে তোমার কথাটা এক্কেবারে সঠিক। যখন সাধারণ আলোর রঙের ধরনটাই এত সুন্দর আর উচ্চমানের তখন কেন নয়! যাই হোক, কেবলমাত্র এর উপরেই নির্ভর করে থেকো না। ভবনের মাসিং, ফর্ম আর যুৎসই দূরত্ব যে পার্স্পেক্টিভ দিবে সেটা কেবল সূর্যের আলো-ই পারে নির্ধারণ করতে। Florence এর ব্যাপারে তোমার ধারণা আর  Piazza di Santa Maria Novella এর প্রতি যে টান সেটা দেখে বলতে ইচ্ছে করছে- একটা সময় ছিলো যখন square of the signoria ছিলো প্রদর্শনীর জন্য অসামান্য এক স্টেজ (ঐতিহাসিক নিদর্শনের)। এরকম আর একটিও নেই। তুমি যেহেতু পিসা (Pisa) এর অনেক কাছেই আছ তাই পারলে একবার সিয়েনা (Siena) টা দেখে ফেলো। পরেও দেখে নিতে পারো কিন্তু এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করো না। তোমার জায়গায় থাকলে কিন্তু আমি এ যাত্রায় দেখে নিতাম। ভবনের ভিতরে ডুকে পড়তাম নিদারুন আনন্দে। নির্দিষ্ট করে Siena এর ছবিগুলোই চমৎকার। সু (Sue) এর ব্লাউজের ব্যাপারে শুনে তো মনে হচ্ছে বেশ দারুণ জিনিস হবে। এই জিনিস জোগাড় করতে তোমার অনেক সময় অপচয় হচ্ছে কিন্তু আমি নিশ্চিত এটা ওর খুব পছন্দ হবে। আর ডরিস (Doris) এর জন্য নেওয়া জিনিসগুলো (যদিও নানা প্রবন্ধ পরে মনে হলো এগুলো বেশ সস্তা হবে) সেটাই নিও যেটা ওর পছন্দ হতে পারে। ক্লস (Clauss) দের সাথে দেখা হলো এই AIA মিটিং এ। Society of Architectural Historian এবং Academy of Fine Arts একসাথে হয়ে এই মিটিং এর আয়োজন করলো। অনেকদিন দেখা হয়নি এমন বেশ ক’জনের সাথে দেখা হলো এবার। এদের মধ্যে ট্যালবোট হোমলিন (Talbot Homlin) আর তাঁর স্ত্রী লেসলি চীক (Leslie Cheek), ফ্রিটজ গুটহাইম  (Fritz Gutheim) এছাড়াও Yale, Harvard এর অনেকেই আছে। কিডার স্মিথ (Kidder-Smith) আমাকে দেখে বেজায় খুশি। আগের মতই খোলামেলা, স্পষ্টভাষী আর মার্জিত ভদ্রতার অধিকারী। দুপুরে আমি আর ভেন্তুরি/ভঞ্চুরি ( venturi) একসাথে খেলাম (সে আবার রোমের fellowship পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তোমাকে মনে হয় আগেও বলেছি)। আমার হাতে কাজ থাকলে ও সেসবে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানালো। ও অবশ্যই অংশ নিতে পারে কিন্তু এই মুহূর্তে ও-কে দেওয়ার মতো কোন কাজ আসলে আমার কাছে নেই। Academy অফিসে কিছুদিন আগে আমি ফোন করেছিলাম, মেরি উইলিয়ামস (Mary Williams) এর সাথে কথা হলো।  বব (Bob) প্রথম প্রিলিমিনারি জাজমেন্টে কিছুটা পথভ্রষ্ট ছিলো এরকম ইঙ্গিতই দিলেন মেরি। ব্যাপারটা সবাই মটামুটি জানে। আমি venturi কে এ ব্যাপারে কিছুই বলিনি। তবে আমি সারিনেন (Saarinen) কে ফোন করে অনুরোধ করলাম যেন তার তরফ থেকে তিনি আরো জোরালো রিকমান্ডেশন করেন। আমি ইরো (Eero) কে জিজ্ঞেস করলাম Venturi আসলেই যোগ্য কি না তখন জবাবে ও বলল, ‘সে খুব ভালো ডিজাইনার এবং সম্ভবত সকলের মাঝে সেরা’। তাহলে venturi এর পক্ষ থেকে একটা চিঠি লেখা হোক এই প্রস্তাব করলাম। (ও যে এই কাজটি ইতোমধ্যে করেই ফেলেছে সেটা বেমালুম চেপে গেলাম)। ও বলল, ‘আমি লিখেছি কিন্তু আমার শব্দচয়ন মন মতো হয়নি’। আমি আর বেশি কিছু বলিনি তবে আশা করছি ও আমার ইঙ্গিতটা বুঝেছে আর আবার লিখবে। বুধবারের ফাইনাল জাজমেন্টের আগ অবধি ওর পুনরায় লেখার সুযোগ আছে।  আমি তো চাই venturi, fellowship টা পেয়ে যাক। তারপর Eero জানালো আমার সাথে নাকি কথা বলতে চায় অন্য ব্যাপারে। এক, হলো এই যে, Joe Lacey আমাকে শুভ কামনা জানিয়েছে। দুই, তার একজন ডিজাইনার চায় যার নিজস্ব কোন দর্শন নেই- আমি কথা দিয়েছি খুঁজে দেখবো। তিন, জানালো আবার বিয়ে করবে এলাইন লোসাইন  (Aline Lochein), art editor কে। যিনি Yale Gallery নিয়ে Newyork Times এ সেরকম ভালো কিছু লিখেননি। ও আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলো যে সে এক অসামান্য নারী। শুধু তাই-ই না তাকে নাকি তার অবাধ সমালোচনা করতে পারার দক্ষতার বাইরেও একজন ব্যক্তি মানুষ হিশাবে জানতেও ভালো লাগবে। স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে নাকি সে আর লিখবে না। ওর ঐ প্রবন্ধের অনেক কথার সাথেই নাকি ও সহমত না (যদিও ও এখনো মুখ ফুটে বলেনি যে ভবনের কি ভালো লেগেছে বা লাগেনি আর আমিও কোন মন্তব্য শুনতে জোর করিনি)। তুমি নিশ্চয় বুঝতে পারছ এই বিল্ডিংটার ব্যাপারে আমি কতটা সংবেদনশীল, আমি এমনই।

উইলো (Willo) সকালে এসেছিলো আলাপ করতে। Penn Center এই চিরাচরিত বিষয় নিয়ে আমরা খুব আড্ডা দিলাম। ইউরিস (Uris bulting #3) এর উপর ভিত্তি করে করা আমার কিছু সাম্প্রতিক স্কেচ ও-কে দেখালাম। তুমিও দেখে বলো তো তোমার কেমন লাগছে। আমি জানি এটা ঠিক আমার কাজের ধরনের মাঝে পড়ে না। ডিজাইনে না আছে কোন অর্ডার আর না আছে গ্রেটনেস। তবে এটার জন্যই ওরা সারিনেন-কে বিশেষজ্ঞ হিশাবে নিয়ে নেবে বলে চাপ দেয়। সে হয়তো এরকম কিছু চিন্তা নিয়ে হাজির হতো। যাই হোক, উইলো’র কিন্তু এটা দারুণ লেগেছে।



01
02



Redevelopment Authority তে এরকম কিছু স্কেচ সহ চিঠি দিবো ভাবলাম। পরক্ষনেই মনে হলো এরচেয়ে বরং বিল্ডিং এর প্রতি আমার ডিজাইন অব্জেক্টিভস নিয়ে বিস্তারিত লিখলেই বোধ হয় ভালো হবে। নগর স্থপতি জর্জ লোভাট (George Lovatt) জানালেন পরের সপ্তাহেই স্থপতিদের ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

এর মাঝে জর্জ লোভাট আমাকে কাউন্সিলের সদস্য ব্ল্যান্স এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন যিনি ট্র্যাফিক এবং পার্কিং এর দায়িত্বে আছেন। আমি তাকে আমার করা ট্র্যাফিক স্কিমটা দেখালাম। উনি তো একবার দেখেই দারুণ পছন্দ করে ফেললেন। আর সিটি কাউন্সিলে যেন আমি এটা দেখায় সে কথাও জানালেন।  এই সেশনের আয়োজকদের মাঝে উনি আছেন। আমি আশা করছি কোন না কোনভাবে city job টা পেয়ে যাবো।  

আমার লক্ষ্মীসোনা, আমার ধারণা তুমি এতক্ষন অপেক্ষা করছ কখন আমি কাজ ছেড়ে নিজের কথা বলবো তোমাকে। যদিও আমি জানি আসলে আমার কাজের কথা শুনতেই তোমার বেশি আগ্রহ কারণ এই একটা ক্ষেত্রেই তো আমাকে সম্পূর্ণ রূপে পাওয়া যায়। আমার কাজ আর তোমাকে চিঠি লেখা ছাড়া অন্য কোন রোমাঞ্চক বিষয়ে এই মুহূর্তে জড়িত নেই। এই দুইটটি জিনিসই তো আছে যা আমার প্রাণ মন আচ্ছন্ন করে রাখে। আমি শুধু চাই যেন ভুল বোঝাবুঝির গভীর বেদনা ছাড়িয়ে আমরা একসাথে টিকে থাকতে পারি। আমি শুধু এটুকুই জানি যে তুমি একজন চমৎকার মানুষ আর আমি তোমাকে, তোমাকেই ভালোবাসি এন।

এ সপ্তাহে আমি টাকা পয়সার হিসাবে গোলমাল করে ফেলেছি তাই বিল দিতে পারিনি যেটা আগের চিঠিতে দিয়ে দিবো বলে উল্লেখ করেছিলাম। আমি আবারো তোমাকে লিখবো, এবারটায় তুমি দেখে নিও টাকা পয়সার হিসাবে কোন ভুল হবেনা। আমি তোমার চিঠি এক নাগাড়ে পড়তেই থাকি আর খুব অবাক হই এটা ভেবে যে এত সহজ করে তুমি লিখ কীভাবে! তুমি সত্যিই আশীর্বাদ প্রাপ্ত যে তোমার কাঁধে ভর দিয়ে থাকা অমন সুন্দর মস্তিষ্কখানা জুটেছে। এখানে যারাই তোমার ব্যাপারে জানতে চায় তাদের সকলের কাছেই আমি তোমার প্রশংসা করি এন। আবারো উইলো’র সাথে সকালের কথোপকথনে ফিরে আসি। আমার প্রতি বেকন (Bacon) এর শীতলতার কারণ কি হতে পারে বলে ও-কে জিজ্ঞেস করলাম। উইলো বলল যে, বেকনে’র মতে আমি হলাম পালের গোদা! আর আমি নাকি ওর সাথে প্ল্যানিং এবং এস্থেটিক আইডিয়া নিয়ে পায়ে পা বাধিয়ে ঝগড়া করতে বদ্ধ পরিকর। (আমি নিশ্চিত না আমাকে নিয়ে উইলো নিজেই এমনটা ভাবে কি না। জবাবে যেন বেকন নয় উইলো’র নিজের প্রতিবিম্বটাই প্রকাশ পায়)। পালের গোদা বলতে কি বুঝিয়েছে সে ব্যাপারে আমার দূর দূর পর্যন্ত কোন ধারণা নেই বিশ্বাস করো। মানে এর অর্থ কি!! যদি এইসব কথা ও প্রচার করে বেড়ায় তাহলে (কাজের দিক থেকে) ও আমার ক্ষতি সাধন করতে পারে যেমন অপূরণীয় ক্ষতিটা করেছে Phila তে। আমি জানিনা অবজ্ঞা করা ছাড়া আর কি উপায় থাকতে পারে। আর আমি এই পন্থায় অবলম্বন করবো মনঃস্থির করেছি। আমি খুব সরি পাখি, আবারো আমাকে নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হলো। আমার উচিৎ তোমাকে একটা লম্বা চিঠি লেখা যেখানে শুধুই আদর করবো আমি তোমাকে। এইরকম একটা চিঠি তোমার দরকার আর তুমি সেটার দাবী রাখো। কিন্তু আশ্বস্ত থাকো- আমি এখনো ফুরিয়ে যাই নি- তবে পায়ে সুড়সুড়ি দরকার আমার ভিন্ন ভিন্ন ভাবে, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। চরম সততা আর শক্তির সহিত আমি নিজের ইগো-কে অনুধাবন করতে চাই এন। এই বেলাতে আমার ইগো ভালো নেই। হয়তো সেই আমি-কে ফিরে পাবো কারণ আমাকে বিশ্বাস ঘাতকতা করার এর কোন কারণ নেই। পালের গোদা!
কি জঘন্য!
অনেক ভালোবাসি তোমাকে পাখি। পরের চিঠিতে স্কুল থেকে জর্জ হাও-এর উদ্দেশ্যে একটা পার্টির আয়োজন করা হয়েছিলো সে ব্যাপারে বিস্তারিত লিখবো। আমি ‘George the Toscanini of Architecture’ শিরনামের একটা ছোট্ট বক্তৃতা দিয়েছিলাম। সবাই বলল দুর্দান্ত হয়েছে! এই চিঠিতে এ নিয়ে লিখতে ভুলে গেছি। তবে এখন তো চিঠি লেখার সমস্ত সরঞ্জাম রয়েছে আমি শীঘ্রই তোমাকে বিস্তারিত লিখবো!

অনেক অনেক ভালোবাসা সহ,
লুই xxxxxxxx

Joe Lacey কানের জন্য আগে কাজ করতেন
Willo vob Moltke, Philadelphia City Planning Commission এর প্রধান ছিলেন।


৩.

৭ মার্চ, ১৯৫৪

আমার আদরের এন,
আমি তোমার চিঠি (সম্প্রতি যেটা দিলে) সীমাহীন উদ্বিগ্নের সাথে পাঠ করলাম আর আশা করছি সবই ঠিক হয়ে যাবে। সন্তান প্রসবের জন্য শয্যাশায়ী, তাও সম্পূর্ণ একা! কি পরিমাণ শক্ত মানসিকতার অধিকারী হতে হয় এজন্য ভাবা যায় না! যার জন্য এত কিছু তুমি করছ সে নিশ্চয় এক সময় তোমার সবথেকে বড় উৎসাহ আর নৈতিক শক্তির উৎস হবে। তুমি ঈর্ষা করার মতন চমৎকার আত্মার একজন নারী। আমিও অপেক্ষা করছি কবে আমরা আমাদের প্রজেক্টে আর ভালোবাসায় পূর্বের মতন সময় দিতে পারবো। ও প্রিয় এন, আমার আদরের এন, আমাদের বহু সমস্যা কিন্তু আমরা তো সমাধানে ওস্তাদ! আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে ভালোবাসি এন।

দুই দুইটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন করে সময় দিতে হচ্ছে তাতে সপ্তাহে সাতটা দিন যথেষ্ট মনে হয় না। এই চিন্তা বন্ধ করতে আমার সপ্তাহে বারো দিন ভেবে আমি সেই পরিমাণে কাজ করি। মোদ্দা কথা হলো নিজের দিনপঞ্জিকা নিজেই বানিয়ে নাও শুধু খেয়াল রেখ যেন তা এটুকুন মনে রাখে যে,  দুনিয়াটা গোল, রাত্রি হলো ছায়া, দিন হলো আলো, ঘুম হলো বিশ্রাম আর প্রেম হলো সেই সুতো যা এলোমেলো পথকে একসাথে বেঁধে রাখে যাতে করে একটা একক পথের সূচনা হয়।

Penn এর প্রতি আগ্রহটা এখন খুব বেশি কারণ এটাই এখন সবচেয়ে কঠিন। যেসমস্ত প্রোগ্রাম দেওয়া হচ্ছে আর তাদের পারস্পারিক সম্পর্কের ধর্মটা ইদানিং আমি বুঝতে শিখেছি। Reuburn plaza এর সাইটটা খুব ছোট আর আন্ডারগ্রাউন্ডের নানা জটিলতায় আঁটকে আছে। নতুন ভবনটা City Hall আর City Hall Annex এর সম্পূরক হিশাবে কাজ করবে। একই সাথে সাম্প্রতিক এবং ১৯৭৩ এর কোন ভবন ছাড়া ফাঁকা জায়গার প্রয়োজনীয়তাকেও পূর্ণতা দিবে। পরের পাতায় আমি তোমাকে ১৯৫৩-১৯৭৩ এর মাঝের সমাধানের ড্রয়িং গুলো দিচ্ছি। বৃহস্পতিবার রাতে আমি একটা বিশ্লেষণ করেছি (শুক্রবারের ক্লাসের জন্য) যেখানে প্রথমবারের মতো ল্যাটিটিউডের শিক্ষার্থীদের দ্বারা নতুন ভবনে স্কয়ার ফিট এরিয়ার বণ্টনের ব্যাপারে ধারণা পাওয়া গেলো। Venturi আমাকে শিক্ষকতায় সাহায্য করছে আর আমি যে স্কিমটা দিলাম তোমাকে ওটা ঐ-ই এঁকে দিলো। স্কয়ার টাওয়ারটির কারণ হলো ( প্রায় ৪০,০০০ স্কয়ার ফিট প্রতি ফ্লোর বা প্রায় ৮ তলা উচ্চতার) প্রথমত, এতখানি গ্রাউন্ড ফ্লোরের এরিয়া কাম্য যাতে করে সাধারণের এলিভেটর ব্যবহারে সুবিধা হয় এছাড়াও ধরো ট্যাক্স কালেকশান বা লাইসেন্স ফি পারমিট এসব কিছুই যেন গ্রাউন্ড ফ্লোরেই করা যায়।

যদি ছ’তলার মাঝে আর ৫০,০০০ স্কয়ার ফিট x ৬ = ৩০০,০০০ স্কয়ার ফিট এরিয়ার মাঝে ভবনের কাজ শেষ হয় তবে আমাদের করা স্কেচতা বেশ ভালোই হয়েছে বলতে হবে। তবে প্লাজার প্রসারণ মনে হয় না সম্ভব হবে।

যদিও আমরা ‘শুরুর স্কেচ’ আর ‘শেষের স্কেচ’ এমন করেও ধাপে ধাপে কাজ করতে পারি। কি বলো?

ইশ যদি আমাদের একটা কমিশন থাকতো- সাধারণভাবে একা বিশাল জায়গায় ডিজাইনের ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তা ভাবনা বেশ বিরল। ঐ একই চিন্তা ভাবনা যখন ফার্স্ট ফ্লোরের অফিস স্পেসের সংখ্যার বেলায় চলে আসে তখন কিন্তু আমার বলা বিশালত্বের চিন্তার সাথে আমাদের পরিচয় ঘটছে না। স্কয়ার টাওয়ারের চিন্তাটা কিন্তু spaceআর ফframe-কে এক করেই ভাবা।


 

3



এই প্ল্যানটা ১৯৭৩ এ করা হয়েছিলো। ১৯৫৩ তে টাওয়ার-১ (৩০০,০০০ স্কয়ার ফিট) তৈরি হয় । টাওয়ার – ২ (১৫০,০০০ থেকে ২০০,০০০ স্কয়ার ফিট) সামাজিক নিরাপত্তা আর স্বাস্থ্য এই দুইটি ডিপার্টমেন্ট-কে বের করে আনে আর বাকি সব ডিপার্টমেন্ট টাওয়ার – ১ এ থেকে যায় যার প্রসারণের প্রয়োজন ঘটে ১৯৭৩ এ এসে। ৩ নম্বরটা হলো পুলিশ বাহিনীর। ট্র্যাফিক সার্কেলের কথা মাথায় রেখে আমি City Hallকে ঘিরে বড় প্লাজাটার কথা ভেবেছি। ৪০০ শতকের বিশাল জলমগ্ন এলাকাটা যারা হাঁটছেন তাদের কথা ভেবে নয় বরং যানবাহনে থাকা মানুষদের জন্য উপভোগ্য করে তোলা হয়েছে। (হয়তোবা শেষেরটাকে আরেকটু মডিফাই করতে হবে)। তোমার কি অভিমত জানিও। আমি তোমাকে একটা বড় ম্যাপ পাঠাবো যেটাতে তুমি ভালো করে কাজ করতে পারবে তবে Percepta Scalএও কিন্তু দিব্বি বোঝা যাচ্ছে- এটাই তো আমি সবথেকে বেশি ব্যবহার করি।

Market St (W) – one way, P(ennsylvania) Boul. (W) one way
Market St E2 way
X = traffic light stop (3 altogether)
Parking permitted to plaza

 



04



তোমার কি মনে হয় টাওয়ার – ১ ভবনটা City Hall এর সাথে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে?

আরো বেশ কতোগুলো দরকারি স্কেচ Maryland এ স্টোরে চাপা পড়ে আছে। পরের ছবিতে তুমি আমার কলামের চিন্তাটা দেখতে পাবে যেখানে আমার মনে হয় না এর চেয়ে বিশুদ্ধতা এই মুহূর্তে আনা সম্ভব। সেই বিশুদ্ধতায় আমি পৌঁছাতে পারবো ম্যাকোম্বের (Macomber)এর খরচের আত্মবিশ্বাসের প্রগতির সাথে সাথে (সুলভ হবে আশা করি) কিন্তু তা সত্ত্বেও এই বিশুদ্ধতা আমাকে দিতে হবে।

সিঁড়ির উপরের অংশটা মেজানাইন – টাওয়ার – ভবনের চারদিকের দেয়াল এখন ভুলে যাও – এই মুহূর্তের মাথা ব্যাথা হলো ১৭৬’ x ১৭৬’ ভবন অথবা ৩০,৯৭৫ স্কয়ার ফিট- এই সমস্যাটা নিয়েই আপাতত কাজ করছি।

আমার মতে কলাম ক্লাস্টারের যে চিন্তাটা মানে I একটা ভালো চিন্তা। তারা তাদের চিন্তা জমা দিয়েছে (কাজটি করেছেন স্থপতি Hans Graham) যেখানে আছে ৩৫ টি কলাম এছাড়াও কিছু বাইরে থেকে জুড়ে দেয়া দেওয়ালের সাপোর্ট। আমি কিন্তু দেওয়াল গুলোকে স্বাধীনভাবেই ভাবছি এখানে।
উফ এত বিচ্ছিরি কলমটা!!!

তো প্রিয় এন, এতক্ষণ আমি আমার সমস্ত কাজ নিয়ে বললাম কিন্তু ৩০,০০০ ডলারের একটা ছোট্ট বাড়ির প্ল্যানিং চলছে সেটা বলতে বেমালুম ভুলে গেছি। এই বাড়ির যিনি ক্লায়েন্ট মিস্টার জেফ (Jaffe), Weiss House টা দেখেছেন বুঝলে। আর এজন্য রেডিয়েন্ট হিট গ্লাস আর ফ্লোরের প্রশংসায় তো একেবারে পঞ্চমুখ। তোমার অনেক কর্তব্যের মাঝেও যদি তুমি একটু সময় দিয়ে এই কাজটা দেখ তো খুব উপকার হয়। যা যা লাগবে- একটা বিশাল লিভিং রুম (ডাইনিং সহ), রান্নাঘর, লন্ড্রি, ২টা স্নানাগার, ২ টা বেডরুম, স্টাডি (বাড়তি ঘর), যতখনি স্টোরেজ আর গাড়ির জায়গা দরকার হয়।

মনে হচ্ছে তোমাকে এবার কাজে ঢুকিয়েই ছাড়বো!

আরেকটু কাজের কথা বলি- তোমার সময়ের পাত্তি নিয়ে। আমি এসব আলমা (Alma) এর কাছে জমা দিয়েছি পেমেন্টের জন্য আর এই চিঠি যতক্ষণে তোমার কাছে পৌঁছেছে তুমি হয়তো টাকা পয়সা গুণে ফেলেছ।

এখন আমি আলমা-কে বলেছি যে তুমি ১৯৫৩ তে ৪৮ ঘন্টা আরো বেশি কাজ করেছ। কিন্তু এই সময়টা এখনই ও এন্ট্রি করতে পারছেনা তাই ১৯৫৪ এ এই সময়গুলো ভাগ বাটোরা করে তোমার নামে দুইটা চেক ডিপোজিট করেছে। তাতে ঠিক ঠিক ৩০০,০০ ডলার হয়। কিছু সময়ের জন্য এতে বেশ চলে যাবে তোমার।

এন, আমার পাখি, আশা করি সব ভালো আছ আর আরো ভালো থাকবে সে প্রত্যাশা করি।
আদুরীর জন্য সকল ভালোবাসাসহ,
লুই xxxxxxxx



৪.
২৮ মার্চ, ১৯৫৪

আদরের এন,
গতরাতে তোমায় স্বপ্নে পেয়েছি। আমি আমাদের আপিসে ফোনে কথা বলছিলাম আর তুমি দৌড়ে এলে আমার কাছে যেন আর তর সইছে না। একটা হলদে জামা পরে, ঘন সোনালি চুলগুলো ঝুঁটি করে মাথার উপরে বেঁধে রেখেছিলে। তোমার কালো জ্বলজ্বলে চোখ দুটো আমাকে তিরস্কার করছিলো! তোমাকে এত সুন্দর দেখাচ্ছিলো এন (আমি নিশ্চিত এখনো তাই-ই দেখাচ্ছে)। এন, ও এন! আমি যে তোমাকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছিনা! আমাদের একসাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। আশা করি আবারো যখন দেখা হবে একই রকম থাকবে সব, কিছুই বদলে যাবে না- তোমার টেলিগ্রাম আসা মাত্রই আমাকে ফোনে শোনানো হয় আর সাথে সাথেই আমিও তোমাকে একটা পাঠিয়েছিলাম, তুমি কি পেয়েছিলে সেটা? তুমি বলেছিলে ফোন করবে- আমিও ঠিক সেটাই করতে চাই- কিন্তু করবোটা কোথায়? আমি তো জানিনা কোথায় ফোন করলে তোমাকে পাওয়া যাবে। আমি খুব করে প্রার্থনা করি যেন তুমি আর আমাদের ছোট্ট খুকিটা ভালো থাকো। তবে সব থেকে বেশি চাই যেটা তা হলো তোমার গত চিঠিতে লেখা আমার প্রতি তোমার প্রেমের প্রকাশ। যেমন করে লিখেছ তুমি এতটুকু ভালোবাসলেই আমি বেজায় খুশি। তোমার কাছ থেকে পাওয়া এটা আমার সবচে প্রিয় চিঠি। চিঠিটা পেয়ে মনে হলো যেন এখনই কিছু একটা ঘটবে, একটা শুভ ঘটনা, একটা শুভ পরিবর্তন। আর তক্ষুনি তোমার টেলিগ্রামটা এলো!

এই চিঠিতে আমি বেশি কিছু লিখতে পারছিনা কারণ সেরকম গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটেনি জীবনে। আমি তোমাকে অল্পদিনেই আবার লিখবো। তবে আমি কিছু লেখার আগে তোমার কাছ থেকেই আমার আরো খুঁটিনাটি জিনিস জানবার আছে। কিছুদিন আগে পাঠানো তোমার নিজের ছবিগুলো দেখছি জানো, এত সুন্দর সবগুলো! তুমি সত্যিই খুব সুন্দর আর বুদ্ধিদীপ্ত, যার প্রেমে না পড়ে থাকায় যায় না। তোমার উৎসাহ আমাকে উৎসাহ দেয়। ঠিক এই মুহূর্তে আমার উৎসাহের ভীষণ অভাব এন। চেনা অচেনা পারিপার্শ্বিক অবস্থা আমাকে চেপে ধরে। মিসেস সারিনেন এর সাথে দেখা হলো। Yale ভবনটি নিয়ে বাজে প্রবন্ধটি লেখায় তিনি ক্ষমা চেতে এসেছিলেন (তোমাকে বলেছিলাম এ ব্যাপারে আগেই)। আমি তার ক্ষমা সুন্দরভাবে গ্রহণ করলেও এটা বুঝিয়েছি যে তার এখনো অনেক কিছু জানার বাকি আছে এবং কি অপূরণীয় ক্ষতিটা তিনি করেছেন এরকম একটা অবিবেচকের মতন সমালোচনা লিখে। তাকে আমার যন্ত্র চালকের মতো মনে হলো। সে আমার সাথে ইরো’র একটা আলাপচারিতার ব্যবস্থা করলো কিন্তু ইরো’র পারফরমেন্স খুবই খারাপ ছিলো। আমার মনে হয় না এতে পরিস্থিতির কোন উন্নতি হবে। তবে সুখের ব্যাপার এই যে অনেকেই ছিলেন এখানে, সবাই শুনলেন আর আমার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই যাচাই করলেন সবকিছু। তাও গোল্লায় যাক সব! ওরকম সুন্দর সব তত্ত্ব প্রমাণের মতো কাজ আছে কোন! আমাকে আগে থেকেই হুঁশিয়ার করা হয়েছিলো যে ইহুদিদের ধর্মসভা ডিজাইন প্রজেক্ট হিশাবে আসতে পারে। আমার মতে স্যাম জেনেল (Sam Gene)lহলো এর প্ররোচক। এখন উঠতে হচ্ছে। শীঘ্রই লিখবো।
অনেক অনেক অনেক ভালোবাসা তোমায়।
লুই xxxxx



৫.
৩ এপ্রিল, ১৯৫৪

প্রিয় এন,
গত কয়দিন ধরেই আমি তোমাকে চিঠি লিখতে বসছি কিন্তু শেষ করতে সফলার সাথে ব্যর্থ হচ্ছি। নানারকম বাধা বিপত্তি, মানসিক দ্বন্দ্ব আর আমার অভিশপ্ত কাজের শিডিউল এর মুল হোতা। তোমার চিঠির জন্য খুব অস্থির হচ্ছিলাম। আলেকজান্দ্রা (Alexandra)- কি সুন্দর একটা নাম! তোমার চিঠি গত বুধবার এলো। বিশ্বাস করো সেদিন রাত থেকেই আমি লিখতে বসেছি। যা-ই লিখছি না কেন মনে হচ্ছে ঠিক করে যেন বলতে পারছিনা। শব্দেরা ফাঁকি দিলো কেমন যেন। বাধ্য হয়ে কলম থামাতে হলো। আমি নিশ্চিত প্রসবের সময়কার তোমার প্রত্যেকটা যন্ত্রণা আমি এখানে থেকে অনুভব করেছি। প্রিয় এন এরকম মুহূর্তে যখন কেউই পাশে নেই আমি জানি তুমি তোমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করেছ তোমার সমস্ত মানসিক, নৈতিক শক্তিকে একখানে জড় করতে, আমি জানি। আমি যে কি শান্তিতে আছি এখন এসব শেষ হয়েছে বলে। আমার বিশ্বাস তুমি ঠিক হয়ে উঠবে আর দ্রুতই আগের মতো চনমনে হয়ে কাজ শুরু করবে। প্রসবের সময়ে তোমার মনে হয়েছিলো ছোট্ট দুটি পা হয়তো পেঁচিয়ে আছে। সে ভুল ভেঙ্গেছে এতদিনে আশা করি। সে যদি তোমার এক ফোঁটাও পেয়ে থাকে তবে সে নিশ্চয় ভীষণ সুন্দর দেখতে। তবে সে যদি আমার মতো হয় , সে বড় হওয়ার প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে সুন্দরে পরিণত হবে। সে যদি তোমার মতন চমৎকার উৎসাহী এবং যোগ্য হয় তবে সে বাঁচতে ভালোবাসবে, চির বিস্ময়ের এই ব্রহ্মাণ্ডে সে সৃষ্টি খেলায় মেতে উঠবে। যদি আমি নিজের ব্যাপারেও একটা কথা বলি এমনকি এই যে এখন তোমাকে লিখছি, আমাকে ক্রমাগত একটা না একটা সুখের স্মৃতিকে আলিঙ্গন করে এসব করতে হচ্ছে। আপিসে সেরকম কোন কাজও আসছেনা আজকাল। তুমি তো জানোই কি কঠিন সীমাবদ্ধতা আর যৎসামান্য অর্থ দিয়ে এসবের সমাধা করতে হয় আমাকে। আমি কিন্তু কোনভাবেই তোমাকে ঘাবড়ে দিতে চাইনা এসব বলে। কারণ আমি জানি তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো আর আমাকে কতখানি প্রয়োজন তোমার। এই মুহূর্তে হাতে যে কাজটি রয়েছে এটা এততাই নগণ্য যে এর ব্যাপারে তোমাকে কিছু বলারই নেই। Harvard এ দেওয়া আমার বক্তৃতাটা খুব ভালো হয়েছে জানো। রে লিকোলেস (re licolais) ছাড়া আর কোন অধ্যাপক কিন্তু ছিলেন না তোমাকে লিখেছিলাম মনে আছে আশা করি। জো সার্তে (jose sart) আমাকে একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেদিন অনুষ্ঠানে না থাকতে পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আমার বক্তব্যের ব্যাপারে শুনে উনি তো বেজায় খুশি। লিখেছেন, ‘সৃষ্টিশীলতার সত্য পদ্ধতি অন্বেষণের যাত্রায় এটা একটা বিল্পবের রূপ প্রদান করেছে।’  U of P জনিত সমস্যাটি গতকাল দিন শেষে এসেছিলো আজ বেলা একটায় সমাধা হলো। সমাধানটা মন্দ হয়নি। খারাপ থেকে ব্যপ্তিটা এখন মাঝারি মানের পর্যায়ে। আমি ভালোই যত্ন আত্তি করলাম এদের কিন্তু কোন সুস্পষ্ট অনুপাতে আনতে পারলাম না। আমি এখনো এর চূড়ান্ত রূপ দেখিনি তাই একটা চমকের প্রত্যাশায় আছি (সব সময়েই থাকি)। সোমবারের প্রদর্শনীতে এর কি বিচার হয় দেখা যাক। গ্যালব (Gallob) আমাকে স্কিমের প্রতিটা পর্যায়ের ছবি তুলে দিয়েছে যেগুলোর ব্লক মডেল বানানো হয়েছে। city hall center Penn center এ মডেলগুলো রাখা আছে। পোস্ট মার্ক দেখে এতক্ষণে বুঝে গেছ চিঠিটা আমি New Heaven থেকে পাঠাচ্ছি। আর মিনিট পনেরোর মাঝে Advisory committee of Architecture এর তরফ থেকে একটা মিটিং এর আয়োজন করা হয়েছে যেখানে আমাকে থাকতেই হবে। অসবর্ন (Osborn), ইরো চীক (Eero Cheek) এর ব্যাপারে তোমাকে আগেই বলেছি এরাও আছে এখানে। স্থাপত্য শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের নানা প্রশ্ন করা হবে। সত্যি বলতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলতেই ইচ্ছা করছে না আমার। দুনিয়া কাঁপানো স্থাপনা ডিজাইনের জায়গা থেকে নিজেকে আজকাল একটু বেশি-ই গোছানো মনে হয়। Bob Bishop যিনি Penn এ শিক্ষকতা করেন, মনে হলো আমার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। তিনি বললেন মাঝে মাঝে তিনি ‘আমার সাথে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করতে চান’ পাশাপাশি বেকন ছাড়া কেন আর কোন নগরের পরিকল্পনা করছিনা এটাই জানতে চাইলেন। তিনি জানালেন তিনি আসলেও কাজ করতে ইচ্ছুক আমি যেন তাঁর চিন্তাটা আমলে আনি। আমি খুবই সরি এন চিঠিটা অল্পেই শেষ করতে হচ্ছে আমাকে। এখনি উঠতে হবে যে।

তোমাদের দু’জনার জন্য এক বুক ভালোবাসা সহ,
লুই xxxxxxxxx
এলেক্সের পা প্যাঁচানো ছিলো না। সে মাসলের সমস্যায় ভুগছিলো যা খুব দ্রুতই ঠিক হয়ে যায়।
Edward Gallob কানের পূর্বের ক্লায়েন্ট  এবং তিনি একজন চিত্রগ্রাহক যিনি carriage house (unbuilt) এর রিমডেলিং এর ছবি তুলেছেন।




15801443_10210026001840483_2096852275_n-1
অনুবাদক সুপ্রভা জুঁই । এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য বিদ্যায় শিক্ষারত ।
Related Posts

LEAVE A COMMENT