বানান হয়ে ওঠা সময়

বাংলা ও প্রমিত বাংলা সমাচার বা বাংলা ভাষার স্বাতন্ত্র্য ও স্বায়ত্বশাসন প্রসঙ্গ

জগলুল আসাদ

লেখক ও শিক্ষক

মোহাম্মদ আজমের “বাংলা ও প্রমিত বাংলা সমাচার” বইটিকে কঠোর শাস্ত্রীয় অর্থে ভাষা বিজ্ঞান বা ভাষা-দর্শনের  বই না বলা গেলেও বইটি ভাষা বিষয়ক যে যে বিবেচনাকে সামনে রেখে রচিত, তা গভীর অর্থে দার্শনিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নই ।গণতান্ত্রিকতা ও বিউপনিবেশায়ন তাঁর বিশ্লেষণ ও আলোচনার দু’টি মৌলিক প্রপঞ্চ যা দিয়ে ভাষা বিষয়ক প্রায় সমস্ত অনুষঙ্গকে তিনি  বিশ্লেষণ করেন । জনমানুষের জবান থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপনিবেশের ঔরসে সংস্কৃতবহুল যে বাংলার জন্ম দেন সাহেব ও পণ্ডিতে মিলে, তা থেকে বাংলা ভাষাকে বিমুক্ত করে তার সহজ স্বভাবে  ফিরিয়ে আনার তৎপরতাকে আজম বাংলাভাষার  বি-উপনিবেশায়ন বলেন । ভাষাকে উপনিবেশের আছর থেকে মুক্ত করাকে আজম মুল্যবান ভাবেন । দশের অংশগ্রহণ ও অবদানের মধ্য দিয়ে ভাষাকে ফলিয়ে তোলা এবং সাহিত্যিক ব্যবহার ছাড়াও জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় কায়-কারবারে ভাষাকে সকলের ব্যবহার উপযোগী করে তোলার প্রকৃয়াকে তিনি জোর সমর্থন জানান এবং একে ভাষার গণতন্ত্রায়ণ বলতে চান । সূচনাপত্রসহ বিবেচনা করলে বইটিতে রয়েছে মোট ১১ টি প্রবন্ধ-নিবন্ধ যার মধ্যে একটি সাক্ষাৎকার ও দু’টি সংযোজনীসহ শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি দীর্ঘ রচনার অনুবাদকর্মও অন্তর্ভুক্ত । বইটিতে রয়েছে বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা বানান, ঢাকাই মান বাংলার সংকট, অভিধানচর্চা, শিক্ষার মাধ্যম হিশেবে মাতৃভাষার নি:সংকোচ প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভাষাচর্চার বিবিধ অভিমুখ শনাক্তি ও পর্যালোচনা । শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ বইয়ের দু’জন প্রধান উপস্থিতি । এ নিবন্ধে আমরা মূলত আজমের বইটির সারাংশ উপস্থাপন করবো; সাথে কিছু পর্যবেক্ষণ ও ভাষা বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু সাধারণ অবলোকন হাজির করা হবে।

ভাষার ভৌগোলিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মাত্রা আছে । রাষ্ট্র, রাজনীতি ও শ্রেণী প্রশ্নের সাথে ভাষার সংযোগ নিয়েও আজ আর সন্দেহের অবকাশ নেই । ভাষাকে জাতি গঠনের অন্যতম উপাদান বলেও ঠাওরানো হয় । জাতীয় সংহতির জন্যে রাষ্ট্রকে ভাষা-প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই হয় । ড.আজমের পাঠ ও পাঠপদ্ধতিতে যে বিষয়টি লক্ষ্মণীয় তা হচ্ছে, কোন রচনা যে-পূর্বানুমান বা অনুমিতির উপর দাঁড়িয়ে তা তিনি প্রথমে শনাক্তির চেষ্টা করেন, তারপর তা মাথায় রেখে আলোচনায় অগ্রসর হন । ভাষাকে তিনি কোন বিমূর্ত আদর্শিক জায়গা থেকে না দেখে ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চান, প্রাধান্য দেন ভাষার উপযোগের প্রশ্নটিকে । এই অন্তর্দৃষ্টি তিনি মুলত লাভ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্যামাচরণ গাঙ্গুলির কাছ থেকে, যাঁরা এ বইয়ের প্রধান আলোচ্য বিষয় ও তাত্ত্বিক পাটাতনও বটে । মার্ক্স, গ্রামসি, বাখতিন, সাইদ, ফুকো ও চমস্কি পাঠের অন্তর্দৃষ্টি আজম লক্ষ্যে-অলক্ষ্যে ব্যবহার করেন এ বইয়ের প্রবন্ধরাশিতে ।

ভাষা যখন ব্যক্তি ও সমাজের মৌখিক পরিমণ্ডল থেকে লেখ্য জগতে প্রবেশ করে তখন তা রাষ্ট্র ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নের অধিভুক্ত হয় । ভাষা আসলেই এক আশ্চর্য ভুবন । ব্যক্তিগত বা সামাজিকভাবে বৈরীভাবাপন্ন হলেও ভাষার জগতে আমরা একে অপরকে সহায়তা করি ।এ নিয়ে ইংরেজ ভাষাদার্শনিক পল গ্রিসের  “কোঅপারেটিভ প্রিন্সিপাল” বলে একটা থিওরি আছে যা কনভারসেশনাল ম্যাক্সিম নামেও পরিচিত । সম্পর্কের জমাট বরফ ও পারস্পারিক কথাবার্তার মধ্য দিয়ে  সহজেই গলে যেতে পারে । কথোপকথনে শ্রোতা ও বক্তার সম্পর্ক স্থানান্তরযোগ্য হয়: বক্তা হয় শ্রোতা এবং শ্রোতা হয় বক্তা । বক্তা ও শ্রোতার ভেতরে থাকে এক ‘গোপন’ বোঝাপড়া ও সমঝোতা, থাকে সমাজভাষার এক অনন্য অংশীদারিত্ব । ফলে নীরবতাতেও বা মৃদু ইশারায় বা গলাখাকারিতেও একে অপরকে বুঝতে পারে । একে অপরের রাগ, ক্রোধ, মান-অভিমান বোঝে । নীরবতা কি সম্মতি নাকি অসম্মতির, নাকি বিরক্তির ― এটাও অপরপক্ষের বুঝতে অসুবিধা হয় না । কথক-শ্রোতা বোঝাপড়ার এক অলিখিত কিছু সুত্র মেনে চলে নিজেদের মধ্যে, নিজেদের অজ্ঞাতেই । ভাষা এমন এক মোহন পাটাতন যেখানে সবাই এক সাথে অবস্থান করে, প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে । পারস্পারিক কথাবার্তা মানুষে মানুষে সংযোগসুত্র । মুখোমুখি পরিসরে আমরা প্রায় সবটাই বুঝে যাই একে অপরের কথা । সমাজে, পরিবারে, রাজনীতিতে, ব্যক্তিগত পর্যায়েও তাই কথোপকথনের গুরুত্ব অপরিসীম । মানুষমাত্রই দার্শনিক, বলেছিলেন গ্রামসি, কেননা, ভাষাবাহিত হয়েই আমাদের চিন্তা পৌছায় নিজের ও অপরের কাছে । চমস্কি শুধান, মানুষ যে  সৃস্টিশীল এটা ভাষা ব্যবহারে তাঁর প্রতিনিয়ত অভিনবত্বেও প্রমানিত হয় । আমরা ভাষায় বাঁচি, ভাষায় বলি, ভাষাও কথা কয় আমাদের মধ্য দিয়ে । ভাষার ভেতরে মানুষে মানুষে ঐক্যের যে প্রাথমিক সূত্র তা-ই যখন সম্প্রসারিত হয় সমাজে, রাষ্ট্রে ও রাজনীতিতে, তখন ব্যাকরণ-বানান ও অভিধানের প্রসঙ্গও জরুরী হয়ে উঠে ।

ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ভাব-প্রকাশ ও  সাহিত্য সংশ্লিষ্ট  ব্যবহারই ভাষার একমাত্র ব্যবহার নয় । রাষ্ট্রীয় পরিসরে জাতীয় সংহতির প্রয়োজনে পাঠ্যপুস্তক রচনা, একাডেমিক বা চাকুরি-বাকরির পরীক্ষা, আইন প্রণয়ণ ও নানা রকম প্রশাসনিক কাজে নানা অঞ্চলের বিচিত্র ‘উপভাষা’ গুলোর বাইরে দরকার হয় ‘ভাষা’র একটি অভিন্ন রূপের যা দিয়ে পুরো জনসমষ্টিকে রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় প্রশাসনিকতার অধীন করা যায় । এ জন্যে দরকার হয় একটি প্রমিত বা মান ভাষা (Standard language)। কোন অঞ্চলের কোন এক  উপভাষাকেই বানিয়ে তোলা হয় রাষ্ট্রের প্রমিত বা মান ভাষা । কোন ভাষার প্রমিতকরণের চারটি পর্যায় আছে: ১) ভাষা নির্বাচন (Selection), ২) নিয়ম বিধিবদ্ধকরণ (Codification), ৩) ব্যবহার-বিস্তৃতি (Elaboration of function), ৪) গ্রহণযোগ্যতা (Acceptance) । বিশেষত সিলেকশন ও কোডিফিকেশন পর্যায়ে রাজনীতি ও শ্রেণী প্রশ্ন কার্যকর থাকে । ড.আজম তাঁর “সূচনাপত্র”- এ জানাচ্ছেন, প্রমিত বিরোধীগণ রবীন্দ্রনাথের ভুল ও খণ্ডিত পাঠ করেছেন । প্রমিতভাষার পক্ষে রবীন্দ্রনাথের যুক্তিকে আজম “মানভাষার রাজধানীতত্ত্ব” বলে অভিহিত করেছেন । এ গ্রন্থের তৃতীয় প্রবন্ধ “প্রমিত বা মান বাংলা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা”- এ ড.আজম রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে বলছেন: “কলকাতা সমস্ত বাংলার রাজধানী । এখানে নানা উপলক্ষে সকল জেলার লোকের সমাবেশ ঘটে আসচে । তাই কলকাতার ভাষা কোন বিশেষ জেলার নয় । … তা বাংলার রাজধানীতে সকল প্রদেশের মথিত একটি ভাষা”। সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন এসে রাজধানীতে জড়ো হয় বলে রাজধানীতে সারা দেশের ভাষার এক ধরণের সাধারণ প্রতিনিধিত্ব দেখা যায় । মানভাষার ভেতরে আঞ্চলিক ভাষাসমুহের ন্যায্য হিস্যাই মানভাষার সার্বজনীনতার দাবিকে লেজিটিমেসি দেয় । আজম এ প্রসঙ্গ এভাবে ব্যখ্যা হাজির করছেন: “মানভাষার শ্রেষ্ঠত্বের দোহাই অপরাপর উপভাষাগুলোকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিপন্ন করে তোলে । এ ঝুঁকি এড়ানোর একমাত্র উপায় সম্ভাব্য মানভাষা নিরূপণের ক্ষেত্রে সকল উপভাষার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” রবীন্দ্রনাথের “মানভাষার রাজধানীতত্ত্ব” অনুসারে ঢাকার ভাষাই হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের মানভাষা । অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে, আমাদের মানভাষা নির্মাণে কলকাতার প্রাধান্যই বরাবর টিকে থেকেছে । অথচ পূর্ব বাংলার উচ্চারণভঙ্গি ও শব্দরীতি পশ্চিমবাংলা থেকে অনেকাংশেই ভিন্ন । কিন্তু বাংলাদেশের মানভাষার বিধিবদ্ধকরণে এ বিষয়গুলো আমলে নেয়া হয়নি এবং এতদ অঞ্চলের উপভাষাসমূহের ন্যায্য হিস্যাও রক্ষিত হয়নি । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষাচিন্তার গণতান্ত্রিকতা, অর্থাৎ দশের অংশগ্রহণে ও দশের প্রয়োজনে মানভাষা বিধিবদ্ধকরণ, এখনো আমাদের চিন্তার দিশারী হতে পারে ব’লে আজম মনে করেন।

রবীন্দ্রনাথের গণতান্ত্রিক  ও সমন্বয়ী চিন্তার পরিচয় তাঁর ব্যাকরণ ভাবনাতেও লভ্য ।ঔপনিবেশিক শাসনের ঔরসে, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে, “সাহেবে-পণ্ডিতে” মিলে বাংলাভাষার যে সংস্কৃতায়ন করা হয়, রবীন্দ্রনাথের বাসনা তা থেকে বাংলাভাষাকে মুক্তকরণ । সংস্কৃত ব্যাকরণের নিগড় থেকে বাংলা ব্যাকরণকে মুক্ত করবার প্রস্তাব ও তৎপরতাকে বলা যাবে তার অবিস্মরণীয় কীর্তি । তবে এখানে এই কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করবার মত, যা আজম অবশ্য উল্লেখ করেননি, যে, রবীন্দ্রনাথ কিন্তু ভারতীয় চিন্তায় সংস্কৃতির যে অবদান ও আভিজাত্য তা অস্বীকার করছেন না । বরঞ্চ, তিনি চাচ্ছেন  বাংলাভাষার নিজস্ব স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য চিহ্নিত করতে । কারণ, বাংলাভাষার উপর সংস্কৃতির যে প্রভাব তা পুরাকালের নয়, বরঞ্চ তা আধুনিক কালের বিষয়, আরো নির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয়, ঔপনিবেশিক প্রভাবজাত ।

যাহোক, বাংলা ভাষার বৈজ্ঞানিক ব্যাকরণ রচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ: “বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশে যতগুলি উপভাষা প্রচলিত আছে তাহারই তুলনাগত ব্যাকরণই যথার্থ বাংলার বৈজ্ঞানিক ব্যাকরণ।” রবীন্দ্রনাথের ব্যাকরণ চিন্তার বৈজ্ঞানিকতা বোঝাতে আজম “ভাষার ইঙ্গিত’ প্রবন্ধ থেকে উল্লেখ করেন: “বাংলাদেশে প্রচলিত প্রাকৃত ভাষাগুলির একটি তুলনামুলক ব্যাকরণ যদি লিখিত হয়, তবে বাংলাভাষা বাঙালির কাছে ভালো করিয়া পরিচত হইতে পারে।” রবীন্দ্রনাথ ব্যাকরণ রচনার জন্যে উপভাষাসমুহ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রাদেশিক উপকরণের ভিন্নতাগুলো আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাভাষার “নিত্য প্রকৃতি” উদঘাটনের প্রস্তাব করেন । ড.আজম রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাবিত ব্যাকারণকে “আরোহী, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর” ব’লে অভিহিত করেছেন । “তাঁর ব্যাকরণে কথ্য-লেখ্যের ফারাক নেই, ‘বাংলা অংশ’ ও ‘সংস্কৃত অংশ’র আলাদা ভাগও নেই । বরং বাংলা ভাষার স্বাতন্ত্র্য ও স্বায়ত্বশাসনই তাঁর উদ্দিষ্ট।” রবীন্দ্রনাথের আদর্শ ব্যাকরণ কোন আরোপিত ছাঁচে তৈরি হবেনা, বরঞ্চ প্রাকৃত বাংলার অভ্যন্তরীণ তুলনাসুত্রে রচিত হবে এ ব্যাকরণ । অবশ্যম্ভাবীরূপে, এ ব্যাকরণ প্রেসক্রিপ্টিভ বা আনুশাসনিক না হয়ে হবে বর্ণনামূলক বা ডেস্ক্রিপটিভ । এ ব্যাকরণ জনগণের জবান থেকে ভাষা নিয়ে তার অন্তরঙ্গ সূত্রাবলী উদঘাটন ক’রে আবার ফিরিয়ে দিবে জনগণেরই মুখে ও হাতে । রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের ব্যাকরণ এখনো রচিত হয়নি । রবীন্দ্র ভাবনা ব্যাকরণের জগতে আমল করা হয়নি । এ ব্যাকরণ এখনো ভবিষ্যতের গর্ভে । তবে, ড.আজম বাংলা একাডেমি প্রণীত “প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ”-এর মধ্যে তিনি এ যাবতকাল রচিত ব্যাকরণের অপূর্ণতার কিছুটা প্রতিবিধান খুঁজে পান। “প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ” গ্রন্থটির উদ্দেশ্য হিশেবে বলা হয়েছে “ভাষার অন্তরঙ্গ প্রসঙ্গ ও প্রকৃয়াগুলিকে যথা সম্ভব আবিস্কার ও প্রকাশ করা”। এ ব্যাকরণ সংস্কৃতের ছাঁচে রচিত নয়, এটা ইতিবাচক । তবে এতে বাংলা ভাষার স্বাতন্ত্র্য ও স্বভাব উন্মোচনে যে ঘাটতি রয়েছে তাকে অন্যান্য সংস্করণে দূর করা যাবে এবং এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের ভাষা-ভাবনাকে অবশ্যই কাজে লাগানো যায় বলে ড.আজমের অভিমত ।

রবীন্দ্রনাথের বানান চিন্তাও তাঁর ব্যাকরণ চিন্তার মতই ‘গণতান্ত্রিক’। রবীন্দ্রনাথ মূলত উচ্চারণ অনুযায়ী বানান রীতির পক্ষে । অর্থাৎ প্রমথ চৌধুরীর ভাষায় “মুখ থেকে কলমে”। আজম রবীন্দ্রনাথের বানান চিন্তায় তিনটি ধাপ শনাক্ত করেছেন: ১। প্রাকৃত বাংলার বানানে সংস্কৃত বানান রূপের সংক্রমণ রোধ ও উচ্চারণ অনুযায়ী বানান নিশ্চিত করা , ২। যেসব সংস্কৃত শব্দের ‘বাংলারীতি’ প্রচলিত হয়ে গেছে সেই প্রচলনকেই বহাল রাখা, ৩। তৎসম শব্দের বানানেরও তিনি পরিবর্তন চান তবে তা তিনি ছেড়ে দেন ভবিষ্যতের ‘কেমাল পাশা’দের হাতে । তাছাড়াও, প্রাক-উপনিবেশিক প্রাকৃত বাংলা ও পুঁথির শব্দরূপ ও বানানরীতিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুর্বসূরী ভাবতেন বলেও আজম জানাচ্ছেন । বাংলা বানানের বিশৃঙ্খলার জন্যে দায়ী মুলত ব্যুৎপত্তি অনুসারী ও উচ্চারণ অনুসারী বানানের মিশ্রণের ফল । বাংলা বানানের সংস্কৃতায়নের পক্ষে যে প্রধান যুক্তি তা ঐ ব্যুৎপত্তির যুক্তি । রবীন্দ্রনাথ বানানের এই কুলুজি-সন্ধানী যুক্তির ঘোরতর বিরোধী ।

“বাংলা ভাষাচর্চার মূল ধারা’য় মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর অন্তর্ঘাত মূলক তৎপরতা” প্রবন্ধে প্রচলিত ভাষাবিশ্লেষণের ধারায় মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর অস্বস্তিজাত স্বতন্ত্র প্রকল্পকে হাজির করেছেন । বাংলা সংস্কৃতির দুহিতা ও বাংলার উৎপত্তি মাগধী প্রাকৃত থেকে এই দুই প্রবল মতকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি স্বতন্ত্র মত প্রচার করেন যে, বাংলাভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে উদ্ভুত গৌড় অপভ্রংশ থেকে । ড.আজম পবিত্র সরকারের বরাতে জানাচ্ছেন, অন্য অনেকের আগে শহীদুল্লাহর চোখে পড়েছিল বাংলা ভাষার অনার্য উৎসের দিকে । ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর “বাংলা ভাষায় মুন্ডা প্রভাব” নামক প্রবন্ধটি ভারতীয় আর্যভাষাতত্ত্বে তাঁর মৌলিক আলোচনা বলে পণ্ডিত মহলে স্বীকৃত । একদিকে ড.শহীদুল্লাহ মুলধারার ভাষাচর্চাকে মেনেও নিতে পারছেন না, অপরদিকে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বিকল্প প্রস্তাবও হাজির করতে পারছেন না । এই টানাপোড়েনকে হেগেলীয় ভাষা ব্যবহার করে আজম বলছেন “অসুখী চৈতন্য বা আনহ্যাপী কনশাসনেস”। ফলে, ড.আজম সিদ্ধান্ত টানছেন, শহীদুল্লাহকে বিশ্লেষণে ইন্টুইশন ব্যবহার করতে হয়েছে ।

ড.আজমের পাঠ ও লেখনীর  একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিশেষ ও সামগ্রিক লেখাজোকার আলোকে কোন লেখকের প্রকল্প বা নিয়তটুকু আবিস্কারের চেষ্টা করা । সে বিবেচনায়, এই প্রবন্ধ বা গ্রন্থের অন্য প্রবন্ধে, ড.শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় প্রকাশিত “আঞ্চলিক ভাষার অভিধান” নামক প্রকল্পকে নিয়ে স্বল্প পরিসরে হলেও আলোচনা আশা করেছিলাম । এই অভিধানের লক্ষ্য সম্পর্কে প্রসঙ্গ কথায় বলা হয়েছে “অতি সহজেই এক অঞ্চলের সাহিত্যিক যাহাতে অপর অঞ্চলের ভাষা সম্পর্কে অবগত হইতে পারেন ও প্রয়োজনবোধে ব্যবহার করিতে সক্ষম হন । সময় সাপেক্ষ হইলেও পরস্পরের এইরূপ ব্যবহারের ফলে সর্বাঞ্চলের বোধগম্য ভাষারীতি গড়িয়া উঠা সম্ভব বলিয়া আশা করা যায়”। যদিও আশা বাস্তবের মুখ দেখে নাই, তবুও যে অভিলাষ এই অভিধানের মধ্য দিয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছিল তা অশেষ মুল্যবান ।

প্রমিত ও অপ্রমিতপন্থীদের মধ্যকার সমকালীন তর্ক কিংবা আলাপের ইশারা এ গ্রন্থে থাকলেও  বিষয়টিকে লেখক আর বেশি বিস্তারিত করেন নি । অবশ্য সাধু ও চলিত, সংস্কৃতপ্রভাবিত বাংলা ও প্রাকৃত বাংলার বাইনারিতে আলোচনার কিছু অংশ এসে পড়েছে । আজকাল সোসাল মিডিয়াতে বেশ বড়সড়ো ও সিরিয়াস লেখাও অনেকে অপ্রমিতে লিখছেন । প্রমিতের আধিপত্যে অস্বস্তি স্পষ্ট । যারা অপ্রমিতে লেখেন তাদের অনেকের ভাষা ‘প্রমিতগন্ধী অপ্রমিত’। আবার, কারো কারো ভাষাকে বলা যাবে “অপ্রমিতগন্ধী প্রমিত ভাষা”। বাংলাভাষার মননশীল লেখালেখিতে প্রমিত-অপ্রমিত ভাষার পারস্পারিক এই গতায়াতের প্রবণতা নতুন । ভাষিক এই ফেনোমেনার ব্যাখা-বিশ্লেষণ প্রয়োজনীয় মনে করি।

আসলে, ভাষার কোন পবিত্রতা -অপবিত্রতা নাই, ছুৎমার্গও থাকতে নেই । সংস্কৃত ভাষাকে দেবভাষা হিশেবে “শুদ্ধ ও পবিত্র” গণ্য ক’রে বাংলা ভাষাকে অশুদ্ধ ও অন্তজ ঠাওরিয়ে “বিশুদ্ধ” করবার প্রবণতার ভেতরে আমাদের ভাষিক বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ নিহিত । বাংলাভাষায় মিশ্রণ আছে বহু ভাষার শব্দের । বাংলার ঋণ রয়েছে ইংরেজি ও সংস্কৃত ছাড়াও আরো বহু ভাষার কাছেই । সেগুলো এখন বাংলাভাষারই অন্তর্ভুক্ত । “বাংলা ব্যাকরণ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ” প্রবন্ধে ড.আজম রবীন্দ্রনাথকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: “যে সংস্কৃত শব্দ বাংলা হইয়া যায় নাই, তাহা সংস্কৃতেই আছে, যাহা বাংলা হইয়া গেছে,তাহা বাংলাই হইয়াছে ― এই সহজ কথাটা মনে রাখা শক্ত নহে” । উদ্ধৃতির ‘সংস্কৃত’ ভাষা বদলে অন্যভাষা বসালেও এই বাক্যের উদ্দিষ্ট তাৎপর্য একই থাকে । অর্থাৎ অন্যভাষার কোন শব্দ যখন আরেক ভাষায় ঢুকে পড়ে তা ঋণী ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক নিয়ম মেনেই ওই ভাষার অন্তর্ভুক্ত হয় । তখন তা আর বিদেশি শব্দ থাকেনা । শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় তো কোন বিষয়ের প্রচলিত ইংরেজিকে অপ্রচলিত বাংলা বা সংস্কৃত শব্দের উপরে প্রাধান্য দেয়ার পক্ষে।

আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ রচনায় সাহায্য পাওয়া গেছে ভিন ভাষার ব্যাকরণ থেকেও, বিশেষত, ইংরেজি ভাষার কিছু ছাঁচ বাংলাভাষায় প্রায় স্থায়ীরূপ পেয়েছে । ঔপনিবেশিক শাসন ও পরবর্তীকালে ‘সাম্রাজ্যবাদ’ সুত্রে বাংলার সাথে সম্পর্ক হয়েছে যেমন ইংরেজির, তেমনি ধর্মীয় সূত্রে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে আরবির । আকাশ সংস্কৃতির অবাধ বিস্তারে সংযুক্ত হচ্ছে হিন্দি । জীবিকার প্রয়োজনে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে ও হবে কোরিয়ান, সিঙ্গাপুরি, চা ইনিজ, জাপানি ইত্যাদি আরো নানা ভাষার সাথে । ভাষা শিক্ষার সামর্থ মানুষের জৈবিক বাস্তবতা, চমস্কি যেটাকে ল্যাঙ্গুয়েজ একুইজিশন ডিভাইস (ল্যাড) বলেন । আর, মনোপরিস্থিতিও সহয়ক হয় বা বিঘ্ন হয় ভাষা অর্জনে । জীবিকা বা জ্ঞানগত প্রয়োজনে  কারো মনে তীব্রভাবে কোন বিশেষ ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধ হলে সে কাঙ্ক্ষিত ভাষাটি বেশ সহজেই শিখে ফেলতে পারে বলে মনোভাষা বিজ্ঞানী স্টিফেন ক্রাশেন জানিয়েছেন, তার মনিটর মডেলের এফেক্টিভ ফিল্টার হাইপোথিসিসে । ভাষা সাম্রাজ্যবাদ বলেও একটা কথা প্রচলিত আছে । রবার্ট ফিলিপ্সন নব্বই দশকে এ নামে একটি বই বের করেন । পোস্টকলোনিয়াল শাস্ত্রে অবশ্য ডিসেন্টার ও ডিফ্যামিলিয়ারাইজ (কেন্দ্রচ্যুত ও অপরিচিতকরণ) বলে দুটো শব্দ আছে যেটি দ্বারা কোন ভাষাকে নিজ গোত্রের ধরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ফেলা বা অপরিচিত করে ফেলা বা শাসকের ভাষাকেই শোষিত তার নিজের হাতিয়ার হিশেবে ব্যবহারের বাস্তবতার কথা বলা হয়।

যাহোক, আমরা এক বহু ভাষিক পরিস্থিতে অবস্থান করছি । তাই আমাদের জবানে প্রতিনিয়ত ‘কোড মিক্সিং’ হয় । উই আর লুকিং ফর শত্রুজ ― এক পরিচিত উদাহারণ । সমাজভাষা বিজ্ঞান সমাজের ভেতরের ভাষিক পরিবর্তন ও পরিস্থিতি এবং ভাষার বহুবিচিত্র ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করে । আমরা যাকে বাংলা ভাষা বলে চিনি তার নানা আঞ্চলিক রূপ, কথ্য ও লেখ্য রূপ, মুখে মুখে ভিন্ন ও বিচিত্র হয়ে যাওয়া রূপ ― সবই বাংলাভাষার বৃহত্তর ক্যাটেগরির (ফার্ডিনান্ড স্যসুরের ভাষায় লাং) অন্তর্ভুক্ত । একটা ভাষার বৈচিত্র সেই ভাষার শক্তি । নানা অঞ্চলের কথ্যভাষার উপযুক্ত ব্যবহার ভাষাকে আরো বেশি প্রকাশক্ষম করে তোলে । সামাজিক মাধ্যমের আবির্ভাবে আমাদের ভাষার বর্তমান চেহারা পরিবর্তিত হচ্ছে, বাংলাভাষা ভিন্নমাত্রা পাচ্ছে; আঞ্চলিক, লিঙ্গীয় ও পেশাগত বহুস্বর প্রতিফলিত হচ্ছে ভাষার শরীরে । এতে শুদ্ধতাবাদীরা যদিও ক্ষয় ও ক্ষতির আশংকাও কম দেখছেন না । কিন্তু, প্রকৃতপ্রস্তাবে, একটি ভাষার স্থিতিস্থাপকতা তার সামর্থের পরিচায়ক । লেখক তার ব্যক্তিপ্রতিভা ও বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর করে সমাজের মানুষের মুখের ভাষা তুলে আনেন তাঁর লেখায়; কথক তার ব্যক্তিত্বের গড়ন ভেদে সমাজ বা গোত্রের ভাষাকে ব্যবহার করেন নিজ বিশিষ্টতায় । সস্যুর একে প্যারোল বলেন, অর্থাৎ সমাজ ভাষার ভাণ্ডার থেকে ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভঙ্গিতে ভাষা চয়ন ও ব্যবহারকে প্যারোল বলা হয় । মনে রাখতে হবে, সমাজ যেমন ব্যক্তিকে ভাষা দেয়, তেমনি  ব্যক্তি প্রতিভাও সমাজকে ভাবপ্রকাশে উপযুক্ত ভাষা সরবরাহ করে । এ-তথ্য অজানা নয় যে, ইংরেজি ভাষায় সেক্সপীয়ার ও মিলটন প্রায় হাজার খানেক শব্দ যোগ করেছেন । যাহোক, আমাদের মধ্যে দরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষারুচি ও চেতনা গড়ে ওঠা । ভাষায়-ভাষায়, মানুষে-মানুষে, জাতিতে-জাতিতে লেন–দেনের বাস্তবতাকে ভুলে যেয়ে ভাষিক মৌলবাদের খপ্পরে পড়া আখেরে বিপদজনক হতে পারে।

ভাষাচিন্তায় ড.আজম রবীন্দ্রনাথের প্রায় নি:সংশয় খরিদ্দার । মনসুর মুসা রবীন্দ্রনাথের ব্যাকরণ চিন্তার প্রায়োগিক সমস্যার কথা তুললে, আজম ‘টীকা’তে রবীন্দ্রনাথকেই ডিফেন্ড করেন ও তাঁর ভাষাচিন্তার অর্থগত সম্প্রসারণ ঘটান । ভাষাচিন্তায় রবীন্দ্রনাথের স্ববিরোধিতা ও সংশয়কে আজম তাঁর বিবেচনার অধীন করেন নি । একটি কারণ হতে পারে, স্ববিরোধীতা উন্মোচন যতটা চিন্তার আনন্দ দেয়, ততটা বাস্তব জীবনে তা কাজের জিনিস হয়না । রবীন্দ্র চিন্তার যতটুকু বাংলাদেশের জন্যে প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োগ-সম্ভব, তা-ই আজম ছেঁকে আনেন । তিনি আমাদের জন্যে এক কেজো রবীন্দ্রনাথকে হাজির করতে ইচ্ছুক যার বানান, ব্যকরণ ও ভাষার প্রমিতকরণ বিষয়ক চিন্তাকে আমরা আমলে নিতে পারি, ব্যবহার করতে পারি । আমাদের এখানে রবীন্দ্রনাথ যতটা কাল্ট, ততটা কিন্তু চিন্তা ও কর্মের উৎস নন।

এ বইয়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রচনা বলে মনে করি, শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রখ্যাত প্রবন্ধ ‘Bengali Spoken and Written’-এর অনবদ্য অনুবাদ “মুখের বাংলা লেখার বাংলা” নামে । সাথে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের সাথে শ্যামাচরণ গাঙ্গুলির বাহাসটিও অসাধারণ সাবলীলতায় অনুবাদিত হয়েছে । এ দুটি অনুবাদের জন্যে ড.আজম পাঠকের কৃতজ্ঞতা ভাজন থাকবেন । পাঠক সর্বপ্রথম  শ্যামাচরণ গাঙ্গুলির এই লেখা দিয়েই বইটি পাঠ শুরু করতে পারেন । তাহলে দেখা যাবে, খোদ রবীন্দ্রনাথও এই প্রবন্ধ দ্বারা  অনুপ্রাণিত । কথ্য ভাষার পক্ষে, তাতে বইপুস্তক রচনা ও জ্ঞানচর্চার পক্ষে এমন জোড়ালো যুক্তি বাংলা ভাষায় তাঁর আগে-পরে আর তেমন দেখা যায়নি । উপভাষাগুলো থেকে উপাদান নিয়ে মান ভাষা তৈরি, উচ্চারণানুগ বানান, কথোপকথনে ব্যবহার দিয়েই কোন শব্দের বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্তি নির্ধারণ প্রভৃতি চিন্তা দ্বারা শ্যামাচরণ তাঁর সমসাময়িক লেখক এবং নিকট ও দূর উত্তরসূরীগণকে প্রভাবিত করেছেন।

 

ড.আজম এ বইতে খুব নতুন কিছু উপস্থাপন করেছেন তা নয়, তবে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন ও ভাবিয়েছেন, নি:সন্দেহে । আজম তার টনটনা তত্ত্বজ্ঞান দিয়ে প্রায় বিস্মৃত ও অলক্ষ্যে থাকা কিছু চিন্তাকে এ কালের ভাষায় আমাদের সামনে হাজির করেছেন । বইটি সাধারণভাবে ভাষা ও বিশেষভাবে বাংলা ভাষা নিয়ে আগ্রহীদের অবশ্যপাঠ্য ।

LEAVE A COMMENT