বানান হয়ে ওঠা সময়

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘ঐ তোর গলা দি আমার গলার চেয়ে চ্যাতা রে’ — মাজহারুল ইসলাম

101
1075 views

মাজহারুল ইসলাম জন্মাইছেন ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, সিরাজগঞ্জে । বাবা রেলওয়ে কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটকাল কেটেছে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় । ফরিদপুর রাজবাড়ীতে রাজা সূর্য কুমারের ছেলে কুমার বাহাদুরের হাতে হোসনে বাগ সিনেমা হলে টিপু সুলতান নাটকে সুলতানের ছোট ছেলের চরিত্র দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু । তারপর মিউজিক কলেজ এবং ঢাকা কলেজে পড়ার সময় ৬ দফা সহ স্বাধীনতা পূর্ব নানান আন্দোলন-সংগ্রামে অ্যাক্টিভ থাকেন । ৬৯ সালের দিকে রেডিওতে নাটক দিয়ে যাত্রা এবং আগের বছর টিভিতে । ৭১ এ পশ্চিম বাংলায় চলে যান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দ সৈনিক হিসাবে কাজ করতে । সেখানে কালচারাল ট্রুপে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য টাকা তুলতে নানান প্রোগ্রামে যুক্ত থাকেন । ৭২ এ দেশে ফিরে রেডিওতে যুক্ত হন আবার স্টাফ আর্টিস্ট হিসাবে। সেখানে অসংখ্য রেডিও নাটক এবং রেডিও ঘোষক হিসাবে কাজ করেছেন ।

১৯৭৪ সালের দিকে রাজ্জাকের করা সম্ভবত প্রথম রঙ্গিন এবং অ্যান্টি-সোশ্যাল ছবি ‘রংবাজ’ সিনেমার ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন দিয়ে রেডিওতে সিনেমার প্রচার বিষয়ে বিশেষ প্রোগ্রাম শুরু করেন । যেইটা পরে ১৯৭৭/৭৮ সালে গিয়ে ১৫ মিনিটের আলাদ একটা সিনেমার প্রোগ্রাম হিসাবে রেডিওতে শুরু হয় (যার শুরু পরিচালক এহতেশামের ‘বন্দিনী’ ছবির প্রচারে জন্য মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর পারমিশন নেয়ার মাধ্যমে) । জি হা ভাই… বলে শুরু হওয়া সেই প্রোগ্রাম এতো জনপ্রিয় হয় যে, ৮০ এবং ৯০ দশকের শেষেও শহর-গ্রামের সিনেমা এবং গান পাগল লাখ লাখ মানুষ সেই সিনেমার প্রোগ্রামের জন্য অপেক্ষা করত রেডিওতে নির্দিষ্ট সময়ে । যারা ঐ সময়ে বুঝমান বয়সে ছিলেন তাঁদের মনে থাকার কথা মাজহারুল ইসলামের এই বিশেষ প্রোগ্রামের কথা । মাজহারুল ইসলাম বলছিলেন, যাত্রা এবং ওয়াজের যে সুর-ভাব সেইটার যে জনপ্রিয়তা সেটা উনি উনার বিজ্ঞাপনী গলায় কাজে লাগান । যার ফলে তাঁর প্রোগ্রাম এতো জনপ্রিয় হয় । আর গলার বিশেষত্ব তো ছিল ই । বাংলাদেশী সিনেমার রমরমা সময়ের সাথে নিজের ক্যারিয়ার পার করেছেন তিনি । অভিনয়, ডাবিং শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন সিনেমায় । ভিলেন জাম্বুর সকল ভয়েজই মাজহারুল ইসলামের । বলছিলেন নায়িকা শাবনার কথা, যাকে মাথায় রেখে বিশেষ ভাবে সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা হয়ত ।

স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে মাজহারুল ইসলাম বলছিলেন, ৭১ এ বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন সংগ্রামে শুধু ছাত্রদের কথা বলা হয় । কিন্তু তখন অনেক শ্রমিকরা ছিলেন সেই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ পার্ট । অথচ তাঁদেরর কথা আমরা বলি না । বিশেষ করে আদমজী জুটমিলের শ্রমিকদের কথা । ৭ই মার্চের ভাষণে অনেক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন ।

টিভি এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিকাশের আগে রেডিও ছিল জনগনের কাছে পৌছানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম । ফলে ক্ষমতার পালা বদল ঘটাইতে ক্ষমতাশীলদের রেডিও দখলের প্রয়োজন পড়ত । যা আমরা ৭১ এ এবং তারপরেও বারবার দেখেছি । দীর্ঘ প্রফেশলান অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের হয়ে উঠা ইতিহাসের সাক্ষী তিনি । ফলে আমাদের বৈঠকি ঢং এর আলাপ মাজহারুল ইসলামের পার করা সময়ের সাথে বাংলাদেশের পার করা সময়কে বুঝতে চাওয়ার দিকে মনোযোগী ছিল।

এইখানে বানানের পাঠক-দর্শকদের জন্য আমরা ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের আলাপ পর্ব – ১ এবং পর্ব – ২  (দুই পর্বে ভাগ করে) হিসাবে দিয়েছি । পরে আরো আলাপ হাজির করবার বাসনা আছে ।


আলাপের প্রথম পর্বের ভিডিও লিঙ্ক — Ps8j26q6l9o
আলাপের দ্বিতীয় পর্বের ভিডিও লিঙ্ক –e07igT5vVeo


You Might Be Interested In

LEAVE A COMMENT