বানান হয়ে ওঠা সময়

আমি কোন গুণে পাব তাঁরে মুর্শিদ ।। পাঞ্জু শাহ ।। গাইলেন– জহুরা ফকির ।। নবপ্রাণ আখড়াবাড়ি, কুষ্টিয়া

101
1331 views

ফকির পাঞ্জু শাহ 

লালনের গানের অতি প্রচারে ঐ অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাধক-ফকিরদের কালামে/গানে আমাদের মনোযোগের কমতি আছে । এইটা নদীয়ার পাঁচ ঘরের তর্ক বা চিন্তার ইতিহাস, বিকাশ বুঝতে সমস্যা তৈয়ার করে । ফকির পাঞ্জু শাহ নদীয়ার পাঁচ ঘরের (স্কুলও পড়তে পারেন) একঘরের প্রবর্তকফলে তাঁর কালাম শুনা বুঝা লালন-নদীয়ার ইতিহাস বুঝার পার্ট । উনি ১৮৫১ সাল থেকে ১৯১৪ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন । বিদ্যা চর্চার ধারায় উনার আরবি, ফারসি, উর্দুতে বিশেষ দক্ষতা যেমন ছিল তেমন বাংলায় । পাঞ্জু শাহর পূর্বপুরুষ ছিলেন ঝিনাইদহের শৈলকূপা এলাকার জমিদার । সেই জমিদারি তাঁর বাপ এবং তাঁর কালে ছিল না ।

তখনকার সমাজে প্রচলিত কীর্তন, গাজীর গান, জারিগান ইত্যাদির মধ্যেই ফকির পাঞ্জু শাহ বেড়ে উঠেন । সাধক হিরাজতুল্লাহর ছিলেন উনার গুরু ।

গবেষকরা বলে থাকেন ফকির পাঞ্জু শাহ রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০ । যার কিছু তাঁর পুত্র খোন্দকার রফিউদ্দীন ‘ভাবসঙ্গীত’ নামক গ্রন্থে সঙ্কলিত করেন। এছাড়া ড. খোন্দকার রিয়াজুল হকের ‘মরমী কবি পাঞ্জু শাহ: জীবন ও কাব্য (১৯৯০)’ গ্রন্থে তাঁর দুইশর অধিক গান সঙ্কলিত হয়েছে। নিজের সাধনা থেকে জাত পাঞ্জু শাহ’র কালাম(গান) সাধু-ফকির এবং সাধারনে ব্যাপক চল ।

১৮৯০ সালে ‘ছহি ইস্কি ছাদেকী গওহোর’ নামে তাঁর একখানা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় । বাংলা ১৩২১ বঙ্গাব্দের ২৮ শ্রাবণ (ইংরাজি ১৯১৪) মাসে ঝিনাইদহের হরিশপুরে পাঞ্জু শাহ্ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আমরা আজকে বানানে জহুরা ফকিরের কণ্ঠে পাঞ্জু শাহ’র  কালাম ‘আমি কোন গুণে পাব তাঁরে মুর্শিদ’ এইটা প্রচার করলাম । আশা করি আগামী দিনে আরো পাঞ্জু শাহ’র কালাম এবং ভিন্ন ভিন্ন সাধকের কালাম/গানও প্রচার করতে পারব ।


 

 

 

 

 

 


সাথে থাকবেন । সাপোর্ট দিবেন ।


You Might Be Interested In

LEAVE A COMMENT