বানান হয়ে ওঠা সময়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ভীষণ ভূমিকম্প হয়ে গেল, আমরা খেয়াল করি নি ⚖ শাহদীন মালিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

101
356 views

গতকাল সকাল ১১ টায় মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আয়োজনে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’ নিয়ে আলোচনা সভা হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে । আলোচনার শুরুতেই সূচনা বক্তবে অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘কিভাবে এই আইন নাগরিক অধিকার নষ্ট করবে সেইটা আমরা বলতেই থাকব । আমরা মনে করি আইন জনগণের মঙ্গলের জন্য হওয়া প্রয়োজন । রাষ্ট্র পরিচালনার সময় বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জ আসে । এবং অনেক সময় সেগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ।
কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কথা বলে নাগরিকদের নিরাপত্তা নষ্ট করব এইটা হতে পারে না । এইখানেই তো ষ্টেট‌সমেন‌শিপ । যেখানে এই ব্যালেন্সটা আমি আনতে পারব । আমার দৃঢ় ভাবে মনে হয়েছে এইটা একটা এক পেশে আইন । এবং এই আইনকে আমরা গ্রহণ করি না । সে কারণেই এই আইনের বিরুদ্ধে আমাদের যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী রয়েছেন, যারা এই রাষ্ট্রের মালিক তাঁদেরকে আমরা অবহিত করতে চাই । সেই কারণেই এই আয়োজন ।’ [ আলোচনার ভিডিও লিঙ্ক —https://www.youtube.com/watch?v=OffyDPfwPo0 ]

 

 

প্রধান আলোচক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক ছাড়াও প্যানেলে আরো আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং আইআইডি’র প্রতিষ্ঠাতা সায়ীদ আহমেদ ।

প্রধান আলোচক শাহদীন মালিক বলেন, ‘এই আইনটা নিয়ে যখন কয়েক মাস আগে কথা বার্তা শুরু হল— তখন মিডিয়া-সাংবাদিকরা মিলে আলাপটা ৩২ ধারায় নিয়ে গেল । এই কারণে আমার ভীষণ রাগ । ৩২ ধারাটা আমার মতে এই আইনে তুলনামূলক ভাবে কম বিপদজনক একটা আইন । কিন্তু মিডিয়া খালি ৩২ ধারার কথা বলে— এই আইনের যে আরো ভয়াবহ দিক আছে সেইটা থেকে আমাদের দৃষ্টি সরিয়ে দিয়েছে । এখন প্রশ্নটা হল আমরা কি করলাম ? মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটিই মনে হয় কিছু আলাপ করেছে, এর বাইরে কোন আলাপ চোখে পড়ে নাই । এই আইনের পরে বাক স্বাধীনতা বলে আর কিছু থাকবে না । হয়ত ! হয়ত বলছি কারণ ইন্টারনেট ছাড়া যদি এই মাইক দিয়ে কথা বলি তখন হয়ত বাক স্বাধীনতা থাকবে । সমস্যা হবে যে, তারা যদি মিডিয়ায় কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচার করে, তখন সেইটার কি কন্সিকুয়েন্স হবে ! তখন হয়ত কিছুটা আইনি তর্ক করতে পারব যে, আমি তো কম্পিউটার বা ইন্টারনেটে কিছু প্রকাশ করি নাই !

 

 

আমেরিকার গণতন্ত্রের কথা যদি টানি— সবাই নিশ্চয় একবাক্যে বলবেন যে, তারা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে আছে । তাদের সাথে আমাদের তুলনা করা ঠিক হবে না । ঠিক কথা । তাইলে আমরা কি ১৭৯১ সালের আমেরিকার সমকক্ষ হতে পারব না ? আমেরিকা সোয় ২০০ বছর আগে যে গনতন্ত্র অর্জন করেছে– সেইটা অর্জন করতে আমাদের কয়শ বছর লাগবে সেইটা আমি চিন্তা করছি । ১৭৯১ সালে আমেরিকার সংবিধানে বলা হল–  বাক স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এমন কোন আইন কংগ্রেস প্রণয়ন করতে পারবে না । বাক স্বাধীনতা খর্ব করে এমন কোন আইন কংগ্রেস প্রণয়ন করবে না । শেষ । তাদের সংসদ এমন কোন আইন পাশ করতে পারবে না যে— এটা বলা যাবে, এটা বলা যাবে না । এখন দেখেন, আমরা তাদের থেকে কত বছর পিছিয়ে আছি । আমাদের হল কি— কিছু বললেই সেটা অপরাধ হয়ে যাবে— সেই আইন এখন পাশ হয়ে গেছে । হা ইন্টারনেটে হ্যাকিং, ডাটা চুরি এই সমস্ত ক্রাইমের জন্য তো একটা আইনের দরকার ছিল । এই আইনেও ঐ সংক্রান্ত কিছু ধারা আছে— যেটা অস্বীকার করা যায় না । কিন্তু এর সাথে সব ধরনের কথা বলাটা কেমন করে চলে আসল যে— এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না । এইটা অবশ্যই অন্য উদ্দেশ্য । এখন আমার মনে হচ্ছে যে, ইন্টারনেটে হ্যাকিং, ডাটা চুরি ক্রাইম নয়; আমাদের কথা বলা বন্ধ করাটাই ছিল মেইন উদ্দেশ্য । এইটা নিয়া কথা বলা দরকার । কিন্তু পুরা আলোচনাটা ৩২ ধারার আলোচনায় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে । যেই কারণে আমার রাগ ।

আইনে অনেক জিনিস হয় । আমাদের সংবিধানে যে চতুর্থ সংশোধনী, যেটা আমরা সবাই সাধারণ ভাবে বাকশাল সংশোধনী নামে জানি । ১৯৭৫ সালে ২৫ শে জানুয়ারি, এই সংশোধনী করে পলিটিকাল পার্টি বন্ধ করে দেয়া হল । একদল আসল। সেখানে আমরা প্রধানমন্ত্রীর শাসন ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতির শাসন ব্যবস্থায় চলে গেলাম । এবং সংশোধনীতে বলা হল— এখন জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে । আমাদের প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে । সেখানে সংবিধানে লেখা ছিল, পার্লামেন্টের মেয়াদ হবে ৫ বছর । ১৯৭৩ সাল থেকে ৫ বছর । আর এখানে নতুন করে চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ।

কেন এই পুরানা ইতিহাস বলছি ? আইনে অনেক সময় অনেক কিছু করা হয় যা আমরা খেয়াল করি না । তখন অবশ্য এই আইনের চর্চা কম ছিল । চতুর্থ সংশোধনীতে দুইটা ইন্টারেস্টিং জিনিস বলা হল । এইটা চালু হওয়ার পর থেকে তখন যে পার্লামেন্ট বিদ্যমান ছিল (১৯৭৩ সালের মার্চে নির্বাচিত পার্লামেন্ট) সেইটার মেয়াদ আবার ৫ বছর হবে । এইটা আওয়ামী লীগ গবর্মেন্টই করে ছিল । তো এখন নির্বাচন নির্বাচন ঝামেলা না করে পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন করে বলতে পারে যে, বর্তমানে যে সংসদ আছে সেইটা আরো ৫ বছর থাকবে ! এইটা ঐতিহাসিক ভাবেই আওয়ামী লীগ সরকার করেছেও । উদাহরণটা দিলাম ।  আমি কোন নতুন, কোন উদ্ভট ধারণা দিচ্ছি না । তারপর ওখানে বলা হয়েছিল যে, সংবিধানে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা সত্ত্বেও— বর্তমানে যে রাষ্ট্রপতি আছেন উনি আজকে থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে ধরে নেয়া হবে। এবং এই সংবিধানের অধীনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বলে ৫ বছরের জন্য ধরে নেয়া হবে । চতুর্থ সংশোধনীতে ৩৩, ৩৪ ধারায় আছে ।

আমি বলছিলাম যে, অনেক কিছু আইনে হয়ে যায় আমরা তা খেয়াল করি না । ভীষণ ভূমিকম্প হয়ে গেল (দুইটা ভুমিকম্পের উদাহরণ দিলাম), এইভাবেই কিন্তু এই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে ভূমিকম্প হয়ে গেছে । আমি ডিটেইলে যাচ্ছি না । বাক স্বাধীনতা শেষ হয়ে যাবে ।’ [ আলোচনার ভিডিও লিঙ্ক — https://www.youtube.com/watch?v=IRosCjRSevM ]

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এই আইনের বিভিন্ন ধারা ধরে ধরে এর বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন । উনি বলেন, ‘ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে বিটিআরসিকে একটা সাবসিডারি অর্গানে পরিণত করা হয়েছে । যখনই আমরা মৌলিক অধিকারের কথা বলব তখন আমাদের এই আইনটির সমালোচনা করা দরকার । মানবাধিকারের বেশ কিছু মানদণ্ড আছে, বেশ কিছু প্র্যাকটিস আছে । একটা হল যখনই কোন ওয়েব সাইট ব্লক করা হবে, তখন সেইটা পাবলিক নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দিতে হবে যে, এইটা এই এই কারণে বন্ধ করে হয়েছে । পাবলিক নোটিশ থাকতে হবে । এইটা খুব জরুরি । আমাদের এখানে পাবলিক নোটিশের কোন ব্যবস্থা নাই । আমরা আসলে কেউ জানি না যে, সরকারি ভাবে কতগুলা সাইট বন্ধ করা আছে । আপনি যদি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারদের সাথে যোগাযোগ করেন তাইলে একটা রাফ আইডিয়া পাবেন । সেইটা হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার সাইট ব্লক করা আছে ।

 

 

৫ ধারায় যে কথাটা বলা হচ্ছে, এখানে যারা আইনের ছাত্র আছেন তারা ভাল বুঝবেন । একটু টেকনিক্যাল কথা, এখানে বলা হচ্ছে এজেন্সির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে । এইটি একটি ভয়ংকর প্রভিশন । এমন প্রভিশন কিন্তু বাংলাদেশের আইনে আমি খুঁজে পাই না । যখন আমি একটা অথরিটি আইনের মাধ্যমে গঠন করছি— তখন সেই অথোরিটি কিভাবে কাজ করবে— সেইটা কিছু প্রসিডিউর বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইতে পারে । কিন্তু তার ক্ষমতা যদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হয়, তাইলে যে আইন আমি করছি সেখানে ক্ষমতাগুলো আমি বলছি না । পরে আমি যখন খুশি এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে তার ক্ষমতা নির্ধারণ করব । এবং সকাল-বিকাল তার ক্ষমতা বাড়াতে পারব । আইন করবার সময় যেহেতু প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা হয়, এই জন্যে মনে হয় আমরা আইনে ক্ষমতাটা উল্লেখ্য করি নাই । তাহলে এই এজেন্সি আলটিমেটলি কি ক্ষমতা ভোগ করবে সেটি খুব চিন্তার বিষয় ।

ছাত্ররা যখন নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করছিল, তখন একদিন আমরা দেখলাম যে, আমাদের মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । বিশেষ পরিস্থিতে রাষ্ট্র সেইটা করতেই পারে । এইটা ঠিক কিনা সেই তর্কে আমি যাচ্ছি না । বিটিআরসি ব্লক করবার নির্দেশনা জারি করেছেন — এইটা বুঝবার জন্য বড় কোন গবেষক হবার দরকার নাই । কিন্তু মজার ব্যাপার হল তখন বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উনি মিডিয়াকে বলছেন, না এমন কোন নির্দেশনা আমরা দেই নি । হয়ত মোবাইল কোম্পানিগুলোর কোন টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে তারা সার্ভিস দিতে পারেনি । তাইলে আমাদের বুঝতে হবে যে, এই সমস্ত রেগুলেটরি সংস্থায় এমন সব লোকজন বসে আছেন— যারা আমাদেরকে, দেশের লোকজনকে চূড়ান্ত রকম গর্দভ ভাবেন । তখন আমার এক ছাত্রের একটা মজার ফেসবুক পোস্ট মনে পড়ছে । সে বলছিল, আমি খুব ভাল ছাত্র না । পরীক্ষায় প্রচুর ফেইল করি । তো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এতো দিন খুব চিন্তিত ছিলাম । বিটিআরসি’র এই বক্তব্য শুনার পর আমার চিন্তা দূর হয়ে গেছে । এমন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি লোক যদি রাষ্ট্রের এমন উচ্চপদে থাকতে পারে— আমার চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নাই !  তার মানে পাবলিক নোটিশ ব্যাপারটা নাই । এইটা অবশ্যই মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ।

যে কেউ যদি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া-পাকিস্তান তিনটা দেশের আইন পাশাপাশি তুলনা করে দেখেন, দেখবেন সবচেয়ে বেশি সাইবার ক্রাইম আমদের আইনে । তার মানে কি বাংলাদেশের মানুষই সবচেয়ে বেশি সাইবার ক্রাইম করেন !  দ্বিতীয়ত দেখবেন, অন্যদের তুলনায় আমাদের আইনে শাস্তির মাত্রা ভয়াবহ রকম বেশি । ইন্ডিয়া-পাকিস্তানে যেইটার শাস্তি ২ বা ৩ বছর, আমাদের সেইটায় যাবত জীবন কারাদণ্ড । কেন ? এইটা কি শুধুই নাগরিকদের মনে ভীতি সঞ্চারের জন্য ? অনলাইন এক্সপ্রেশনটা বন্ধ করবার জন্য ?

হ্যাকিং এর জন্য ইন্ডিয়ায় শাস্তি হল ৩ বছর, পাকিস্তানে ৩ মাস । আর বাংলাদেশে শাস্তি হল প্রথম বারে ১৪ বছর, দ্বিতীয় বারে যাবতজীবন ।’ [ আলোচনার ভিডিও লিঙ্ক — https://www.youtube.com/watch?v=wngLm_jXIOA ]

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আপনি দেখবেন শুধুমাত্র কথা বলার জন্য— যেটা শহিদুল আলমের গ্রেফতারের পরে আরো বেশি বলা হচ্ছে— শুধু মাত্র কথা বলার কারণে, ভিডিও লাইভে কথার কারণে ৬০ দিন ধরে জেলে আটকে থাকবে ? তাইলে যারা কোটি কোটি টাকা পাচার করে দিচ্ছে, লুটপাট করছে— তাদের তো পরিবার সহ চৌদ্ধগুষ্ঠি বছরের পর বছর জেলে থাকা উচিত ।  শাস্তি আসলে নির্ধারণটা করছে কে ? আমরা আসলে যে ধারনাটা গুলিয়ে ফেলছি বা সরকার আমাদের গুলিয়ে দিচ্ছে যে, সরকার আর রাষ্ট্র ধারনাটাকে গুলিয়ে ফেলা এবং এখানে নাগরিকদের এক্সক্লোট করা । আমি জানি না নাগরিকদের বাদ দিয়ে সরকার হয় কেমনে ? রাষ্ট্র হয় কেমনে ?

 

 

সংবিধানে গণপ্রতিনিধিত্ব বিষয়ে যেভাবে আছে সরকারে যারা প্রতিনিধিত্ব করেছে সেটা তো জনগণের প্রতিনিধিত্ব । জনগণ আসলে কি চায়— তারা সেটা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঠিক করছে । তাইলে তারা যে পাওয়ারটা এইসারসাইজ করছে, তারা যে আইনটি বানাচ্ছে সেটা তো নেতারা বানাচ্ছে বসে । জনগণ যে আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে— তাহলে সেই আইন কি জনগণ বানাচ্ছে ? সেই আইনে কি জনগণের অফিসিয়াল ম্যান্ডেট আছে ? এই আইনের ঘোরপ্যাচগুলো রয়ে গেছে । এবং বরঞ্চ আমাদের ঠাণ্ডা করার জন্য, যখন আমরা বলতে যাচ্ছি যে, আমাদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে তখন আমাদের পক্ষের আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে । বা বলছে আমাদের তো ম্যান্ডেট আছে ! আপনি যদি বলেন, আপনি বিনা ভোটে হয়েছেন— তাহলে আপনি ৬০ দিন ধরে জেলে আটকা থাকবেন ! আপনার কিন্তু এই কথাগুলোও বলার সুযোগ থাকছে না । আপনি অনলাইনে বলুন আর অফলাইনেই বলুন । তার মানে আমার উপর যে আইনটা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, সেইটার ক্যারেকটার টা রাজতন্ত্রের মতই । আমরা মুখে বলছি গণতন্ত্র !’  [ আলোচনার ভিডিও লিঙ্ক — https://www.youtube.com/watch?v=8kK1e4zSEps ]

আইআইডি’র প্রতিষ্ঠাতা সায়ীদ আহমেদ প্রশ্ন করেন, ‘কেন আমাদেরকে বিএনপি আমলের তৈরি করা আইন— যেটার বিরুদ্ধে তখন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা-নেতারা প্রতিবাদ করে বলেছিলেন যে, এই আইনটা নিবর্তন মূলক আইন । যেইটা দিয়ে বিরুধি দলের উপর নির্যাতন করা হবে । যেই আইনের ব্যাপারে তাদের এতো বিরুধিতা ছিল— পরবর্তীতে তারা কিভাবে সেই আইনটা বলবত রাখে ?’ [ আলোচনার ভিডিও লিঙ্ক —https://www.youtube.com/watch?v=45Cqn7yzt9E  ]

 

 

উপস্থিত অডিয়েন্স সারি থেকে ডাঃ জাফরুল্লাহ প্রশ্ন রাখেন কে এই আইনের ড্রাফটা করেন ?  জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক প্রাথমিক ড্রাফটা করেন । পরে অনেক সেলিব্রেটি সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সরকারের
উচ্চপর্যায়ের লোকজন মিলে এইটা নিয়ে কাজ করেন । [ আলোচনার ভিডিও লিঙ্ক — https://www.youtube.com/watch?v=GCzIzSF59Ww ]

 


You Might Be Interested In

LEAVE A COMMENT