বানান হয়ে ওঠা সময়

তারেক মাসুদ ভাই জিজ্ঞাসা করত, কি সাধু সিনেমা বানাইবা ? — নির্মাতা হুমায়ূন কবীর সাধু ।।

101
1830 views



ভিডিওতে ক্লিক করে পুরা আলাপ দেখতে পারেন ।
——————————————————–
“ভাইবেরাদর” শব্দটা শুনলেই বাংলাদেশের অডিও-ভিজুয়াল কালচার সম্পর্কে যারা খোজ-খবর রাখেন তাদের মনে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং তাঁর সাথে বেড়ে উঠা একঝাঁক তরুণ নির্মাতা-অভিনেতার ছবি মনে আসবে । বাংলাদেশের অডিও-ভিজুয়াল হিস্টোরিতে এইটা একটা নতুন ফেনোমেনা । বাংলাদেশের ভিজুয়াল ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত প্রায় সকল ধরণের চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, নতুন নতুন বিষয়-ভাবনা, ইমাজিনেশন, শব্দ-ভাষার ব্যবহার, চরিত্র তৈরি, নতুন ধরণের ন্যারেটিভ তৈরি, নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রথাগত এ্যাক্টর-এ্যাক্টিঙয়ের ধারণা ভেঙ্গে ফেলে নতুন নতুন অভিনেতার আবিষ্কার– এমন অসংখ্য নতুন চর্চাকে সামনে নিয়ে আসেন তারা ।

এই ঘটনা বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত অডিও-ভিজুয়াল কালচারাল দুনিয়ায় বিপ্লব সমান । অন্যের কিংবা বাইরের টাকায় জনবিচ্ছিন্ন হাই আর্টের ফাঁদে জীবন-যৌবন হারানো এবং সব কিছু বেঁচে দেয়ার কালে এইটা মাথায় থাকাও জরুরি– তাঁদের অর্থকরির উৎস বিদেশ না, অনুদান-সাহায্য না । দেশি উৎসের, জনগণের পকেটের টাকায় এইসব কায়-কারবার ।

ছবি নানান রকম সে কথা বলা বাহুল্য । সুপার হিট দর্শক মাতানো ছবি যেমন ছবি; এর বাইরেও দরকারি নানান রকম ছবি আছে । তেমন ছবি তৈরির কেউ কেউ চর্চা করেছেন, করছেন । জহির রায়হান থেকে তারেক মাসুদ পর্যন্ত অনেকেই তাঁদের কাজ দিয়ে আমাদের ভাবিয়েছেন । এও আমাদের ইতিহাস ।

এইসব ইতিহাস সামগ্রিক পাঠের বাইরে বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট ধরেও পাঠ করা জরুরি । নানান রকম চর্চা-রুচির ভিন্নতাকে বিরোধে নিয়ে গিয়ে আমরা পিছিয়েছি অনেক । এইটা মনে হয় আমরা বুঝতে পারছি এখন । ফলে নানান ধরণের চর্চার প্রতি আমাদের আন্তরিক দরদ রেখেই– আমরা এখানে কথা বলছি বাংলাদেশের বিশেষ ধরণের অডিও-ভিজুয়াল হিস্টোরি-কালচার-ফেনোমেনন নিয়ে । আশা করি ভুল অর্থ তৈয়ার হবে না ।

এত কিছুর পরেও আমরা আমাদের ভিজুয়াল ইন্ডাস্ট্রিকে শক্ত ভিতের উপর এখনো দাঁড়া করাতে পারিনি । প্রায় ২ যুগ পর আমরা এখন ভাববার মত অনেক নতুন নতুন নির্মাতার সাক্ষাৎ পাচ্ছি । কলোনিয়াল-সাম্রাজ্যবাদি কালচারাল হেজিমনির বাইরে লোকাল-আন্তর্জাতিক পরিসর, পরিস্থিতি, অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ফিল্মে বিশ্বের কাছে আমাদের নিজেদের নতুন করে হাজির করার তুমুল সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে । এমন অনুমান আমাদের আশা জাগায়- এইবার আমরা নিজেদের গল্প, নিজেদের মত করে বলব হয়ত ।

প্রসঙ্গত হুমায়ুন আহমেদের নাম নেয়া জরুরি, যিনি এই চেষ্টার গোড়ার মানুষ বলে কেউ কেউ বলে থাকেন । যদিও মনে রাখা দরকার হুমায়ুন আহমেদ এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ভিজুয়াল রুচি, বিষয়, প্রেজেন্টেশনের ধরণে পার্থক্য ব্যাপক ।

সম্ভাবনা থাকলেও অডিও-ভিজুয়ালের বাইরে বাংলাদেশের শিল্প চর্চার অন্য কোন অঙ্গনে ব্যাপক মাত্রার পরিবর্তন তেমনটা ঘটে নাই । পুরানা চিন্তার প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়াশীল টান, হাই আর্টের প্রতি অলৌকিক মায়া, মানুষ বিচ্ছিন্ন হাওয়ায় আভিজাত্য ভাব ইত্যাদি কারণে এই পরিবর্তনের শক্তিকে যতটা নোটিশ করে ক্রিটিক করা দরকার ছিল; আমরা তা যথাযথ ভাবে কোন মাধ্যমেই করতে পারি নাই । অথচ একাডেমিয়া, সজীব গবেষকদের জন্য বাংলাদেশের এই নতুন ফেনোমেনা মনোযোগের আওতায় পড়ার কথা । তেমনটা খুব উল্লেখ করার মত হয় নাই ।

বানান এইসব বিষয়কে অ্যাড্রেস করতে চায় । সেই চেষ্টার অংশ হিসাবে ভাইবেরাদরদের অপেক্ষাকৃত নতুন সদস্য ফিল্মমেকার হুমায়ূন কবীর সাধুর সাথে আলাপে আগ্রহী হয়েছি আমরা ।

বানানের পক্ষ থেকে আলাপ করেছেন লেখক এস এম রেজাউল করিম মনু । মনু তার মত করে আলাপ বিস্তার করেছেন- সেইখানে ১ ঘণ্টার এই ভিডিও আলাপ বা সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে– কেমন করে সাধু আসলেন ফিল্মে, কি মনে করে আসছিলেন, এখন বাস্তবতা কেমন, নির্মাণ-অভিনয় ইত্যাদি নিয়ে কেমন করে ভাবেন, পূর্ববর্তী বাংলাদেশের অডিও-ভিজুয়াল হিস্টোরিকে কেমন করে দেখেন– ইত্যাদি নানান প্রসঙ্গ, যেখানে নিজেও তাঁর মতামত দিয়েছেন ।

এমন আলাপ আমরা চালু রাখতে চাই । আশাকরি বানানের লগেই থাকবেন । আর ভিডিওতে শুনতে-দেখতে থাকবেন আলাপ । হয়ত বাংলাদেশের অডিও-ভিজুয়াল কালচারাল হিস্টোরিও ।


[icon size=”” icon=”icon-desktop” display=”true” ][/icon] ভূমিকা, ক্যামেরা, এডিট: মোহাম্মাদ রোমেল ।  

 


হুমায়ূন কবীর সাধু অভিনীত এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত “ঊন-মানুষ” । আগ্রহীরা দেখতে পারেন ।


হুমায়ূন কবীর সাধু পরিচালিত “সিজোফ্রেনিয়া” । আগ্রহীরা দেখতে পারেন ।


 


You Might Be Interested In

LEAVE A COMMENT