বানান হয়ে ওঠা সময়

বাংলাদেশে লেখার ভাষা এমন হওয়া উচিত যেন বাংলাদেশের যে কোন অঞ্চলের মানুষ এই ভাষায় লেখতে আগ্রহবোধ করতে পারে — কে এম এ রাকিব

101
407 views

আলাপটা হুট কইরাই শুরু হইল । মাঝাখান থেকে একটু শুনাই।

মনু জিগাইতেছিলেন তানভির রে—
‘হাসান আজিজুল হককে সামনে পাইলে কি জিগাইতেন যে, আপনি আপনার প্রথম বইটা প্রমিত ভাষায় লেখছেন কেন ?’

তানভির কয়— ‘পাইলে জিগাইতাম।’

মনু— ‘আপনি জিগাইতেন । কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ জিগাইছে জানেন ? জিগাইছে বইলা শুনা যায় নাই ।’

তানভির— ‘আমরা নিজেদের মধ্যে কন্টিনিউয়াস আলাপ করতে থাকি । যারা পরিচিত কবি-টবি আছে । বলি । আচ্ছা, এই যে করেছি, খেয়েছি, গিয়েছি এখান থেকে দূরে যাওয়া যাচ্ছে না কেন ? বা মেজরিটি যাচ্ছে না কেন ?’

মাঝাখানে আরো কিছু ক্যাচাল । তারপর রাকিব বলতে চাইল—
‘ওভারঅল আমি প্রমিততে বিশ্বাসী না ।’

‘ঢাকার বাইরের একটা লোক ঢাকায় কথা বলার আগে ভাবতে হয় আমার এইভাবে কথা বলায় ক্ষেত লাগবে কিনা ! ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভুগে ! আমাদের এখানে আর্ট কালচারের ব্যাপারটা হইল এমন— এক্সপ্রেশন, মিডিয়াম, ল্যাঙ্গুয়েজে এতো বেশি রেস্টিকশন যে একটা ৬ পাশ/৮ পাশ লোক সাহিত্যে আসতেই পারতেছে না ।’

তার আগে-পরে আলাপ হইতেছিল ভাব-বিষয় বুঝে অনুবাদের জুতসই ভাষা । প্রমিত ভাষার মাস্তানির তলে বাংলা ভাষার অন্যরূপ বা গণরূপ চাপা পড়ে আছে কিনা । ধর্মীয় ট্যাবুর বাধায় মন খুলে লেখার সমস্যা নিয়ে । তারচেয়ে বড় বাঁধা কথা বলায় রাজনৈতিক সেন্সর । সরকারের সমালোচনায় সেন্সর । জোকসের বাংলা কি হইতে পারে এবং বাংলায় এইসব রস কিভাবে ভিন্ন-বিভিন্ন ভাবে ছড়ায় আছে ইত্যাদি নিয়া ।

আলাপ শুরু হইছিল ‘জিজেকের জোকস’ নামের বই নিয়া একটা ইন্টারভিউ করার উছিলা দিয়া । পরে শুকরানা মজলিশের হাজিরানা ইন্টারভিউর জায়গায় একধরনের আড্ডা-আলাপ-প্রশ্ন-বাহাসে মাতে। ব্যাপারটা ভালই হইছে । অনেক আলাপ আসছে, কথা কইছে অনেক দিক থাইকা । আলাপের কিছুই সেন্সর করি নাই ! কোন শব্দে রুচিতে কষ্ট লাগলে মাফ কইরেন !

৩০ নভেম্বর তারিখ ধইরা ‘জিজেকের জোকস’ আর ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গদ্য কবিতা’র বই প্রকাশের উছিলায় পাবলিক আড্ডার বিজ্ঞাপন দিছিলেন ‘বাছবিচার’ ইভেন্ট খুইলা । জায়গা ছিল ঢাকার কাঁটাবনে ‘বাংলাদেশ লেখক ঐক্যে’র আস্তানা।  ‘জিজেকের জোকস’র লেখক কে এম এ রাকিব ।

ইভেন্ট পেইজে বাছবিচার বলছিলেন, “বই ছাপানোর পরে বই নিয়া কথা-বার্তা বলতে চাই আমরা। এর আগে কয়েকবার পাবলিক প্লেইসে বসার ট্রাই করছি, কিন্তু আড্ডাটা ভালো হইলেও জায়গাটা ঠিক রাখা যায় না; এইজন্য একটা ফিক্সড প্লেইসে বইসা দেখি, কি অবস্থা হয়। ঠিক ফরমাল কোন প্রোগ্রাম না এইটা যেইখানে কেউ কেউ ওয়াজ করবেন আর কেউ কেউ শুনবেন। চাইলে যে কেউই যে কোন জিনিস নিয়া আলাপ করতে পারবেন, আড্ডা দিতে পারবেন; মেইনলি তো আর্ট-কালচার নিয়াই আলাপ করতে চাই আমরা।”

আমি আড্ডার মাঝ টাইমে বিদাই নেই । আড্ডা চলে ।

ওইদিন জিজেকের জোকস ১৫০ টাকা আর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গদ্য কবিতার বই ৬০ টাকায় বেঁচে । পরে কত বেঁচে জানি না ।  লেখেন অনেকদিন কিন্তু এইটা প্রথম বই লেখকের । জিজেক নিয়া বাংলায় খুব বেশি লেখা দেখি নাই । আগ্রহ থাকলে বইটা কিন্না ফালাইয়েন ।

আর ভিডিওতে রেকর্ড করা ১ ঘণ্টা ৬ মিনিটের পুরা আলাপ-বাহাস সময় কইরা দেইখেন । শুরুতে যার কিছু লিখিত নমুনা দিলাম । কম দামি মোবাইলে রেকর্ড করায় অডিও-ভিডিও সিঙ্ক হয় নাই । একটু আগে পরে হইছে । ফলে অডিও শুইনা ভিডিও মিলাইতে গেলে প্যারা খাইবেন । বাই বাই ।

✍ মোহাম্মদ রোমেল


You Might Be Interested In

LEAVE A COMMENT