বানান হয়ে ওঠা সময়

‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরীব সবায় খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়।’

102
1727 views

বড় বাপের পোলায় খায়

Cok0

চকবাজারের ইফতারের ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে বুঝলাম এই ইতিহাস অনেক পুরানো । মোগল আমল থেকে ইংরাজ আমল হয়ে পাকিস্তান পর্ব শেষে বাংলাদেশ পর্বে চলছে ধারাবাহিক ভাবে এই ইফতার বাজার ।

Bibi_Mariam_Cannon               Dhaka_Town_Chowk_-_1904

এখন এইখানে যারা ইফতার কিনেন-বেচেন তাদের বেশির ভাগই আশপাশের বাসিন্দা । দূর থেকেও আসেন অনেকে । জিজ্ঞাসা করে জানলাম বিক্রেতাদের অনেকেই বাকি ১১ মাস অন্য কাজ করেন । শুধু রমজানে এই ইফতারের বাজারে বসেন বাপ বা দাদার মত । অনেকেই ঢাকার নানান হোটেল-বেকারিতে সারা বছর কাজ করেন। সময়ের বদলে ইফতারির আইটেমে-নামেও বদল ঘটেছে । একই আইটেমের অনেক নাম । সুতি কাবাব খুব পরিচিত আইটেম । তাছাড়া আরো আছে শাহি হালিম, দই বড়া, মুরগির রোস্ট, খাসির আস্ত রান, চিকেন কাঠি, কোয়েল পাখির রোস্ট, মুরগির রোস্ট, ফালুদা, বোরহানি, লাবাংও, দুধ, পেস্তা বাদামের শরবত, ঘোল বা মাঠার শরবত, তোকমার শরবত, বেলের শরবত, লেবুর শরবত, তেঁতুল ও গুড় মিশ্রিত টক-মিষ্টির শরবত, ইসবগুল ও বেদানার শরবত, নানা রকম ফলের শরবত, পুঁদিনা পাতার শরবত ইত্যাদি ।

আছে শাহি জিলাপি । ক্রেতার চাহিদা মত যার একেকটিরই ওজন ১ থেকে ৫ কেজিও হয় ।

‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরীব সবায় খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়’ চক বাজারে ঢুকতেই এমন হাঁক-ঢাক শুনবেন । এইটা একটা বিশেষ আইটেম । পুরান ঢাকা কামাল মাহমুদ ৬০/৭০ বছর আগে প্রথম এই  খাবারটি এখানে বেচার শুরু করেন বলে তার বংশের বর্তমান প্রতিনিধি সালেকিন মিয়া জানান । আগে বটপাতার ডালায় করে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিক্রি হত । পাকিস্তান আমলে এর নাম ছিল ‘শিক চূড়ার ভর্তা’। বাংলাদেশ আমলে এর নাম হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়।’

এই আইটেম তৈরিতে ডিম, গরুর মগজ, আলু, ঘি, কাঁচা ও শুকনা মরিচ, গরুর কলিজা, মুরগির মাংসের কুচি, মুরগির গিলা-কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, চিড়া, ডাবলি, বুটের ডাল, মিষ্টি কুমড়াসহ ১৫ পদের খাবার আইটেম ও ২৪ ধরনের মসলা মিশানো হয় বলে তাদের দাবি ।

আমরা চেষ্টা করেছি চক বাজারে যারা ইফতারি বেচেন-নিয়মিত কিনেন, তাদের সাথে কথা বলে চক বাজারের ইফতারের ইতিহাসের একটা চিত্র হাজির করতে । বানানের জন্য এই ভিডিও নির্মাণে পরিকল্পনা, ক্যামেরা এবং এডিটিং এ ছিলেন মোহাম্মদ রোমেল । তাকে সহযোগিতা করেছেন তুষার হাসান মাহমুদ, সুধাম আনন্দ ব্রহ্মচারি ।


You Might Be Interested In

LEAVE A COMMENT