বানান হয়ে ওঠা সময়

শিক্ষার্থীদের জবানে ২০১৫ সালের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন : স্মরণ, ইতিহাস এবং শিক্ষা 

101
1146 views

প্রাইভেট ভার্সিটির ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের ১ বছর পূর্তি আজ । ২০১৫ সালে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী এই ন্যায্য আন্দোলনে মাঠে নামেন । অভিভাবক সহ সমাজের নানান স্তরের মানুষের সাপোর্টে এই আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয় ।
 
সাম্প্রতিক সময়ে এমন সফল আন্দোলন বাংলাদেশে খুব বেশি নাই । অভিজ্ঞতা হিসাবে বানান এই আন্দোলনের ইতিহাস ধরে রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে । ফলে এই আন্দোলনের সাথে যারা সরাসরি জড়িত ছিল এমন ৫ জনের কথা শুনতে চেয়েছি আমরা । তারা কেন, কিভাবে, কোন বুঝ থেকে এই আন্দোলনে তৎপর ছিলেন তাদের কথা ভিডিওতে ধারণ করে রাখল বানান টীম । ভবিষ্যতে এইটা ইতিহাস লেখার দলিল হিসাবে গবেষকদের কাজে লাগতে পারে । কাজে লাগতে পারে গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতা হিসাবে ।
 
এইখানে যে ৫ জন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তাদের নাম সালাউদ্দিন মোহাম্মদ মিঠু (ইস্ট ওয়েস্ট), শিহাবউদ্দিন সানি (ইস্ট ওয়েস্ট), কাকন বিশ্বাস (ইস্ট ওয়েস্ট), আফরিন তিথি (ইস্ট ওয়েস্ট), অন্তরা (ইউআইটিএস)’র ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তারা ।
 
আসুন আমরা একটু পিছনে ফিরে মনে করে নেই সে সময়ের কিছু ঘটনার কথা :
 
বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের খসড়া বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার উপর ১০ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) চালু করার প্রস্তাব করেন। নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনার পরও তা কমিয়ে ৭.৫% করা হয় এবং ১ জুলাই ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করা হবে বলে সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা আসে ।
 
এর প্রতিক্রিয়ায় ২২ জুন ২০১৫ তে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ভবনের দিকে যেতে চাইলে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তা ভণ্ডুল করে দেয় ।
 
ছাত্রদের এমন প্রতিবাদেও ২০১৫ সালের আগস্টের শুরুতে সরকার ভ্যাট প্রত্যাহারে অসম্মতি জানায় । এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে ।
 
এর ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে রাজধানীর আফতাবনগরে অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামে । তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে । যেখানে পুলিশের গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত নিবন্ধকসহ প্রায় ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে খবর রটে। এই খবর প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রদের মাঝে বিস্ফোরণের জন্ম দেয় ।
 

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডি, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকে –

 

‘নো ভ্যাট, গুলি কর’,
‘নো ভ্যাট অন অ্যাডুকেশন’,
‘শিক্ষা কোন পণ্য নয়’
 
আন্দোলনকারীরা স্লোগানে স্লোগানে নিজেদের দাবি নানান মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকেন । এই ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের কথা ছড়াতে ব্যাপক সুবিধা করে দিয়েছে ।
 
ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের এমন আন্দোলনের মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর বৃস্পতিবার দুপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঘোষণা দেয় “এই ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে। কোনো ক্রমেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তা নেয়া হবে না।”
 
ওই দিন বিকেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও একই কথা বলেন।
 
এইসব কথায় বিশ্বাস করে পিছু হটেনি আন্দোলন শিক্ষার্থীরা।
 
বরং আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পরে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শহরে। সারাদেশে ৮৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ৬৪টি মেডিকেল কলেজ এবং ১৭টি প্রকৌশল কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নেন।
 
অভিভাবকসহ সমাজের বেশীর ভাগ মানুষ এই আন্দোলনে সমর্থন দিতে থাকে ।
 
প্রথম দিকে মূলধারার অধিকাংশ গণমাধ্যম এই আন্দোলনের খবর গুরুত্ব দিয়ে না ছাপলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে প্রবল আলোচনা ও ভ্যাট বিরোধী ফেসবুক ইভেন্টগুলোতে ব্যাপক মানুষ সাড়া দেন ।
 
ততদিনে বিভিন্ন বেসরকারী ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসে ঢাকা প্রায় অচল করে দেয়। ফলে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ভ্যাট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানায় । ছাত্ররা বিজয়ি হয়ে ঘরে ফেরে যান ।
 
[icon size=”” icon=”icon-category” display=”true” ][/icon]  এখানে শুরুতে ব্যবহার করা ফুটেজ, ছবি, সাউন্ড, গান, ঐতিহাসিক বক্তৃতা আন্দোলনের সময় ছাত্রদের নিজেদের তৈয়ারি করা কন্টেন্ট নেট সূত্র থেকে নেয়া হয়েছে ।

You Might Be Interested In

LEAVE A COMMENT