বানান হয়ে ওঠা সময়

“আমার তো সুইসাইড করার কথা” – মুহাম্মদ খসরু ।। পর্ব ১ ।।

102
243 views

মোহাম্মদ রোমেল

১ম পর্ব (চলবে…)

মুহাম্মদ খসরুর জন্ম ভারতের হুগলী জেলায় । তার বাবার বাড়ী কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের মোহনপুর গ্রামে । বাবা হুগলীতে জুট মিলে কাজ করতেন । সেখানে দাঙ্গার বাস্তবতার কারণে ৫০’র দশ‌কে ঢাকায় চলে অা‌সেন তারা । জীবনের বেশীরভাগ সময় ঢাকাতে কাটালেও এখন তিনি মোহনপুর গ্রামে থাকেন ।

প্রা‌তিষ্ঠা‌নিক বিদ্যার বাই‌রে নি‌জেকে নি‌জে গ‌ড়ে তুলে‌ছেন ইচ্ছামত।

জনপ্রিয় হালকা বি‌নোদ‌নের বাইরে সি‌রিয়াস সিনেমার প্র‌তি দর্শক-নির্মাতা‌দের ম‌নো‌যোগ ফিরা‌তে ৬৩ সা‌লে ঢাকায় শুরু ক‌রেন “চল‌চিত্র সংসদ অা‌ন্দোলন” । সাথে চলে ফিল্ম নির্মা‌নের কা‌রিগ‌রি দক্ষতা অর্জ‌নের জন্য দে‌শের বাই‌রে থে‌কে গুরুত্বপূর্ণ লোক এনে ওয়ার্কশপের উদ্যোগ । বের ক‌রে‌ছেন ফিল্ম নি‌য়ে ক্রিটিকাল লেখা-প‌ত্রিকা । ফিল্ম‌কে মানু‌ষের অ‌ধিকারের প‌ক্ষে কা‌জে লাগা‌তে লেখালেখি করেছেন । সিরিয়াস সিনেমার বিষয়ে আগ্রহী মানুষজন তাকে ঘিরে তৎপর ছিলেন বহুকাল । এইভাবেই তার কর্মময় সময়ে উনি হয়ে উঠেছিলেন যাপনে-চিন্তায় বহু মানুষের প্রেরণা । কেউ কেউ পরে আলাদা হয়ে নিজেদের মত কাজ করেছেন । নিজেদের সিনেমা বানানোর চেষ্টাকে ‘বিকল্পধারা’ শব্দে পরিচিত করতে চেয়েছেন । এইসবই ইতিহাস ।

এইসব তৎপরতার সবটা ভাল আজকাল তেমন কেউ আর ভাবে না । কেউ কেউ তর্ক তোলেন মূলধারার সিনেমার প্রতি মুহাম্মদ খসরু হয়ে চল‌চিত্র সংসদ অা‌ন্দোলনের মধ্যে পয়দা হওয়া সিনেমাওলাদের যে চিন্তা-ভঙ্গি তৈয়ার হয়েছে কিংবা মূলধারার সিনেমাকে পাশা কাটিয়ে কিংবা কখনো কখনো বিরোধিতা করে বাণিজ্য না “বিকল্প” বলে যে ধরণের সিনেমা হয়েছে; সেইসবে দেশের বৃহৎ দর্শকশ্রেণি নাই হয়ে আছে (ভাষা, ইতিহাস বুঝাবুঝির ঘাটতি, মাস কালচারের বিরুদ্ধে অবস্থান ইত্যাদি আরো ১০টা কারণ আছে হয়ত আমাদের সিনেমার দর্শক হারানোর)। সমালোচকদের মূল্যায়ন চল‌চিত্র সংসদ অা‌ন্দোলনের কর্মীরা যদি “মূলধারার” প্রতি সৎভাব রেখে কাজ করতেন, ইন্ডাস্ট্রি তাদের মেধায় লাভবান হত । ভুল বিরোধে ক্ষতি হয়েছে সকলের । এর ফল আমাদের ইন্ডাস্ট্রি আজ ধ্বংস হতে চলেছে । সিনেমা আজ ইন্ডাস্ট্রিতে নয়; লিমিটেড কোম্পানি, কর্পোরেট হাউস কিংবা দখলে তৎপর আছে ভিনদেশি বেনিয়াদের দল ।

দেখা গেছে, দীর্ঘদিন বিকল্পধারার নির্মাতাদের প্রধান অংশের– দর্শক এবং লগ্নি টাকার উৎস কিংবা রিটার্নে দেশি দর্শকশ্রেণী ভরসা হিসাবে থাকে নাই, মূল আগ্রহ দেশের বাইরের প্রশংসা-পুরস্কারে । ফলে তাদের কাজে সব সময় বাংলাদেশ, তার কালচার কিংবা গণমানুষের জীবন, নিজের জীবন হাজির ছিল তেমনটা নয় । দেশ-কাল-পাত্রহীন তথাকথিত উচ্চ রুচির দোহাইপারা এইসব শিকড়হীন আর্টিদের চিন্তা-রুচির বাইরে নতুন নির্মাতারা ভাবছে এখন। আমরা দেখছি বেশ কয়েক বছর ধরে পুরানা বিভক্তি চিন্তার ফাঁদ থেকে বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতারা বের হতে লড়াই চালাচ্ছেন । দেশি দর্শক তৈরি, নিজের ইতিহাসে বসে নিজেদের গল্প বলা ইত্যাদি লড়াই চলছে । বৈশ্বিক পুঁজি, ক্ষমতা সম্পর্কের মেরুকরণ ইত্যাদি বিবেচনায় লড়াইটা স্বাধীন দেশ হয়ে থাকার মতই বেশ কঠিন; তবে অসম্ভব নয় । ইতিমধ্যে এর ফল আমরা পাচ্ছি ।

তো চল‌চিত্র সংসদ অা‌ন্দোলনের কর্মীদের যে প্রধান কাজ ছিল মানুষকে ভাল ছবি দেখানো, ডিজিটাল যোগাযোগের বিপ্লব ঘটায় এমন কাজের গুরুত্ব আগের মত নাই । চল‌চিত্র সংসদ অা‌ন্দোলনও আগের মত নাই । যারা আছেন তারা নতুন নতুন কর্ম পরিকল্পনা এবং কাজ নিয়ে তৎপর থাকার চেষ্টা করছেন ।

এমন ভিন্ন বাস্তবতায় যখন মুহাম্মদ খসরু’র যুগের বিলয় হয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা প্রিয় খসরু ভাইয়ের কাছে হাজির হলাম কি ছিল তাদের সময়ের শুরুর বাস্তবতা এমন প্রশ্ন নিয়ে ? তারা কি করতে চেয়েছিলেন ? কি কি পারলেন ? কি কি পারলেন না ? এইসব আলাপের ফাঁকে ফাঁকে তিনি আমাদের তার ব্যাক্তিগত জীবনের অলিগলিতে হাঁটিয়েছেন । যেখানে খসরু ভাইয়ের আঁকা কথার বুলিতে আরো অসংখ্য মানুষ এসে হাজির হয়েছেন মিষ্টি কিংবা নিন্দার মূর্তি হয়ে । আমরা সেসব এডিট করিনি। আমাদের ধারণা এইসব নিন্দা-মন্দ, মিষ্টি কথা, একটু অভিমান নিয়ে বলা ঢাকার অলিখিত ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ । যা শুধু চল‌চিত্র সংসদ অা‌ন্দোলনের ইতিহাসই নয়; ঢাকার সামগ্রিক ইতিহাসের পার্ট । আমরা এই সম্পদ হারাতে চাইনি ।

আমরা প্রায় ৩ ঘণ্টা তার সাথে আলাপ করেছি । ১ ঘণ্টা করে ৩ তিন পর্বে বানান মুহাম্মদ খসরুর এই ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রচার করবে ।

সাক্ষাৎকারে সূত্রধরের ভূমিকায় ছিলেন নির্মাতা গাজী মাহতাব হাসান এবং মোহাম্মদ রোমেল ।

ক্যামেরায়: মোহাম্মদ রোমেল ।
সাথে ছিলেন হাসিব শাহ্‌ এবং সাইফুল ইসলাম শামিম ।


২য় পর্ব (চলবে…)

সেক্সও তো কালচার — মুহাম্মদ খসরু ।।


You Might Be Interested In

LEAVE A COMMENT